করিয়ে দেয়। নারীদের মাঝে একটি প্রচলিত কথা আছে যে— “যে পুরুষ স্ত্রীর সান্নিধ্য ছাড়াই (জুমুআর দিনে) গোসলখানায় ঢোকে, গোসলখানার দেয়ালগুলোও তাকে দেখে হাসে!”
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের ওপর জুমুআর গোসল ওয়াজিব
জুমুআর দিন মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ দিন, আর এই দিনের পরিচ্ছন্নতাকে শরীয়াহ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। হাদীস শরীফে এসেছে— রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“জুমুআর দিনে গোসল করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের ওপর ওয়াজিব; সেই সঙ্গে মেসওয়াক করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করাও।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা যে কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি হক—তা নিম্নোক্ত হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়:
“প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আল্লাহর এই হক রয়েছে যে, সে প্রতি সাত দিনে অন্তত একদিন গোসল করবে—যেদিন সে তার মাথা ও শরীর ধৌত করবে।” [সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম]
এজন্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন: “তোমাদের কেউ যখন জুমুআর নামাজে আসবে, সে যেন অবশ্যই গোসল করে আসে।” [সহীহ বুখারী]
ঘরে গোসলখানা রাখার আবশ্যকতা ও পর্দার গুরুত্ব
ইসলাম নারীর মর্যাদা ও হিজাব রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর। জনসমক্ষে বা উন্মুক্ত স্থানে গোসল করা যেখানে পর্দার লংঘন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে ইসলাম বিকল্প ও নিরাপদ ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন তার স্ত্রীকে (জনসমক্ষে) হাম্মামে (গণ-গোসলখানায়) না পাঠায়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন লুঙ্গি বা আবরণ ছাড়া হাম্মামে প্রবেশ না করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন এমন দস্তরখানে না বসে যেখানে মদ পরিবেশন করা হয়।” [সুনান তিরমিযী, নাসাঈ, মুসনাদ আহমাদ ও আল-মুস্তাদরাক; সহীহ]
উম্মুদ দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন: আমি একবার হাম্মাম থেকে বের হলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “হে উম্মুদ দারদা! তুমি কোথা থেকে আসছ?” আমি বললাম: হাম্মাম থেকে। তখন তিনি বললেন:
“সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! যে নারী নিজের গৃহ কিংবা তার মায়েদের গৃহ ব্যতীত অন্য কোথাও নিজের পোশাক খোলে, সে মূলত তার ও পরম দয়ালু আল্লাহর মাঝে বিদ্যমান সকল পর্দা ছিন্ন করে ফেলে!!” [মুসনাদ আহমাদ; সনদ সহীহ]
আধুনিক প্রেক্ষাপট
