বাজার হইতে মিঠাই আনিয়া দুই পুত্রের হাতে দিয়া বলিতেন, মিঠাইয়ের জন্য মসজিদে যাওয়া বড়ই লজ্জার কথা। হযরত হাকীমুল উম্মতের মেধাশক্তিও ছিল অসাধারণ। বিদ্যালয়ের দৈনন্দিনের পাঠ সহজেই কণ্ঠস্থ করিয়া ফেলিতেন। কাজেই পিতা বা ওস্তাদগণ কেহই তাঁহাকে তিরস্কার বা ভৎসনা করার সুযোগ পাইতেন না; বরং ওস্তাদগণ তাঁহাকে আন্তরিক স্নেহ করিতেন।
তিনি ধর্মকর্মে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। এজন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই তাঁহাকে স্নেহ করিত। কেহই তাঁহার কাজের প্রতিবাদ করিত না। এমনকি অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করিত না।
দেওয়ালী পূজার সময় মীরাটের ছাউনী বাজারের রাস্তার দুই ধারে সারি বাঁধিয়া অসংখ্য প্রদীপ জ্বালান হইত। তাঁহারা দুই ভাই রুমালের সাহায্যে বাতাস দিয়া একাধারে সকল প্রদীপ নিভাইয়া দিতেন। এজন্য কেহই তাঁহাদের কিছু বলিত না; এমনকি হিন্দুরাও কিছু বলিত না।
তিনি খেলার মধ্যে নামাযের অভিনয় করিতেন। সমপাঠীদের জুতাগুলিকে কেল্লা মুখে সারি করিয়া সাজাইতেন এবং একটি জুতা সারির সম্মুখে স্থাপন করিয়া সঙ্গীদেরকে বলিতেন, দেখ দেখ, জুতাও জামাতে নামায পড়ে। এই বলিয়া বেশ আনন্দ উপভোগ করিতেন। ইহাতে বুঝা যায়, জামাতে নামায পড়ার প্রতি তাঁহার অন্তরে কত আকর্ষণ ও ভালবাসা ছিল। তিনি খেলাধুলায় অযথা সময় নষ্ট করিতেন না, বরং দো’আ দুরূদ পড়িতে থাকিতেন।
তাঁহার বয়স যখন ১২/১৩ বৎসর, তখন তিনি শেষ রাত্রে উঠিয়া তাহাজ্জুদের নামায পড়িতেন। গভীর রাত্রে একাকী নামায পড়িতে দেখিয়া তাঁহার চাচীআম্মা বলিতেন, তাহাজ্জুদের নামায পড়ার সময় তোমার এখনও হয় নাই, বড় হইলে পড়িবে। ইহাতে কোন ফল হইল না; বরং তিনি রীতিমত তাহাজ্জুদের নামায পড়িতে রহিলেন। চাচীআম্মা নিরুপায় হইয়া তাহাজ্জুদ নামাযে মশগুল থাকাকালীন তাঁহাকে পাহারা দিতেন। কারণ, ছেলে মানুষ গভীর রাত্রে একাকি ভয় পাইতে পারে।
ছোটবেলা হইতেই তিনি ওয়ায বা বক্তৃতা করিতে অভ্যস্ত ছিলেন। সময় সময় সওদা আনিবার জন্য তাঁহাকে বাজারে যাইতে হইত। পথিমধ্যে কোন মসজিদ দেখিতে পাইলে উহাতে ঢুকিয়া পড়িতেন এবং মিম্বরে দাঁড়াইয়া খোৎবার ন্যায় কিছু পড়িতেন, অথবা কিছু ওয়ায নছীহত করিতেন। এরূপে তিনি ছোট বেলায়ই ওয়াযের ক্ষমতা অর্জন করিতে সক্ষম হন। ফলে তিনি উত্তরকালে বিখ্যাত ওয়ায়েয বলিয়া প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
হযরত হাকীমুল উম্মত যখন সবেমাত্র মক্তবের ছাত্র তখন কুবুল আকতাব হযরত মিয়াজী নূর মুহাম্মদ ছাহেবের খাছ খলীফা হযরত শায়খ মুহাম্মদ মুহাদ্দেস (ইনি হাজী ইমদাদুল্লাহ্ মুহাজিরে মক্কীর পীর-ভাই) বলিতেন, এই বালক উত্তরকালে আমার স্থলাভিষিক্ত হইবে। হযরত হাকীমুল উম্মত বাল্যকালে যখন গৃহের বাহিরে যাইতেন, তখন আকাশের মেঘমালা তাঁহাকে ছায়া দিত। আল্লাহর ওলী এবং যথার্থ অর্থে “নায়েবে রসূল” হওয়ার ইহাই একটি উজ্জ্বল নিদর্শন।
একটি স্বপ্নঃ
হযরত হাকীমুল উম্মত বাল্যকালে একটি তাৎপর্যপূর্ণ স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, স্বপ্নে আমি দেখিলাম, আমি মীরাটের যে বাড়ীতে থাকিতাম উহাতে উঠিবার দুইটি সিঁড়ি ছিল, একটি বড় ও একটি ছোট। “আমি দেখিলাম, বড় সিঁড়িটির একটি পিঞ্জিরায় দুইটি সুন্দর কবুতর। অতঃপর যেন চারি দিক সন্ধ্যার অন্ধকারে ছাইয়া গেল। তখন কবুতর দুইটি আমাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল: আমাদের পিঞ্জিরাটিকে আলোকিত করিয়া দিন। উত্তরে আমি বলিলাম, তোমরা নিজেরাই
