আলোকিত করিয়া লও। তখন কবুতরদ্বয় নিজেদের ঠোঁট পিঞ্জিরার সহিত ঘর্ষণ করিতে লাগিল। দেখিতে দেখিতে খাঁচাটি এক উজ্জ্বল আলোকে আলোকিত হইয়া গেল।”
কিছুদিন পর এই স্বপ্নের কথা তিনি তাঁহার মামা ওয়াজেদ আলী সাহেবের নিকট ব্যক্ত করিলে তিনি ইহার তা’বীর এই করিলেন যে, কবুতর দুইটির একটি হইল ‘রূহ’ অপরটি ‘ন’। মোজাহাদা বা সাধ্য-সাধনার মাধ্যমে তাহাদিগকে নূরানী করিতে আবেদন করিয়াছিল। কিন্তু তোমার কথায় তাহারা নিজেরাই নিজেদেরকে নূরানী করিয়া লইল। ইহাতে বুঝা যায়-রিয়াযত ও মোজাহাদা ব্যতিরেকেই আল্লাহ্ পাক তোমার রূহ্ ও নম্সকে উজ্জ্বল করিয়া দিবেন। কালে এই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হইয়াছিল।
শৈশব হইতেই তিনি ছিলেন নাযুক তবিয়তের। তিনি কাহারো নগ্ন পেট দেখিতে পারিতেন না। অনাবৃত পেট দেখামাত্র তাঁহার বমি হইয়া যাইত। যে গৃহে কোন প্রকার তীব্র সুগন্ধ থাকিত তথায় তিনি ঘুমাইতে পারিতেন না আর দুর্গন্ধের তো কোন কথাই নাই। কোন জিনিস এলোমেলো দেখিলেই তৎক্ষণাৎ তাঁহার মাথা ব্যাথা আরম্ভ হইয়া যাইত।
শিক্ষা ব্যবস্থাঃ
হযরত মাওলানা থানভী (রঃ) কোরআন মজীদ ও প্রাথমিক উর্দু, ফার্সী কিতাব মীরাটে শিক্ষা লাভ করেন। পরে থানাভবন আসিয়া তদীয় মাতুল ওয়াজেদ আলী সাহেবের নিকট শিক্ষা লাভকরেন। অতঃপর আরবীতে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য ১২৯৫ হিজরীতে বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “দেওবন্দ দারুল উলুম মাদ্রাসায়” গমন করেন। মাত্র পাঁচ বৎসরেই দেওবন্দের শিক্ষা সমাপ্ত করিয়া দেশে প্রত্যাগমন করেন। তখন তাঁহার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বৎসর। এই সময়ের মধ্যে এলমে হাদীস, এ তীর, আরবী সাহিত্য, অলংকার শাস্ত্র, সূক্ষ্ম তত্ত্বজ্ঞান শাস্ত্র, সৌরবিজ্ঞান, দর্শন শাস্ত্র, ইসলামী আইন শাস্ত্র, নৈতিকচরিত্রবিজ্ঞান, মনস্তত্ত্ববিজ্ঞান, মূলনীতি শাস্ত্র, প্রকৃতিবিজ্ঞান উদ্ভিদ ও প্রাণীবিজ্ঞান, ইতিহাস ও যুক্তিবিজ্ঞান, আধ্যাত্মিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞান ইত্যাদি বাইশটি বিষয়ের জটিল কিতাবসমূহ অতি কৃতিত্বের সহিত অধ্যয়ন করেন। এ সময় তিনি “জের ও বম” নামে একটি মূল্যবান ফার্সী কাব্য রচনা করেন।
দেওবন্দে দুইটি স্বপ্নঃ
১। একবার তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, ‘একটি কূপ হইতে রৌপ্য স্রোত প্রবাহিত হইয়া তাঁহার পিছনে পিছনে ধাবিত হইতেছে’।
২। আর একবার তিনি দেখেন জনৈক বুযুর্গ ও কোন এক দেশের গভর্ণর, এই দুই ব্যক্তি তাঁহাকে দুইখানা পত্র লেখেন। উভয় পত্রেই লেখা ছিল যে, আমরা আপনাকে মর্যাদা প্রদান করিলাম।” ঐ পত্রের একটিতে হযরত নবী করীম (দঃ)-এর নামের মোহর অঙ্কিত ছিল। উহার লেখাগুলি বেশ স্পষ্ট ও সুন্দর ছিল। অপর পত্রের মোহরের ছাপ অস্পষ্ট থাকায় পড়া যাইতেছিল না। হযরত মাওলানা এই উভয় স্বপ্ন দেওবন্দের প্রধান অধ্যক্ষ ও পরম শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ হযরত মাওলানা ইয়াকুব ছাহেবের নিকট ব্যক্ত করেন। প্রথম স্বপ্নের তা’বীরে মাওলানা বলিলেন, দুনিয়ার ধন-দৌলত তোমার পায়ে লুটাইয়া পড়িবে, অথচ তুমি সেদিকে ভূক্ষেপও করিবে না। দ্বিতীয় স্বপ্নের ব্যাখ্যায় বলিলেনঃ ইন্শাআল্লাহ্ দ্বীন ও দুনিয়ায় তোমার যথেষ্ট মান-সম্মান হইবে। এ সময় উক্ত ওস্তাদ ছাহেব তাঁহার দ্বারা ফতওয়া লিখাইতেন। ওস্তাদের প্রতি তাঁহার প্রগাঢ় ভক্তি ছিল। তিনি ওস্তাদের যথেষ্ট খেদমত করিতেন। ফলে তিনি ছাত্র
