বেহেশতী জেওর

« <
/ 6
> »

জীবনে “আশ্রাফুত্তালাবা” এবং কর্ম-জীবনে “আশ্রাফুল ওলামা” নামে খ্যাতি লাভ করেন। যেমনটি নাম তেমনি কাম।
দারুল উলুমের অধ্যয়ন শেষে কৃতী ছাত্রদের যথারীতি পাগড়ী পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বৎসর কুতত্বে আ’লম হযরত মাওলানা রশীদ আহমদ গঙ্গোহী ছাহেব (রঃ) স্বীয় পবিত্র হস্তে হযরত মাওলানা থানভীর মাথায় পাগড়ী বাঁধিয়া দিলেন। এ সময় মাদ্রাসার ওস্তাদদের নিকট তাঁহার প্রতিভার প্রশংসা শুনিয়া হযরত গঙ্গোহী ছাহেব তাঁহাকে কতিপয় কঠিন কঠিন প্রশ্ন করেন। হযরত মাওলানা ঐ সকল প্রশ্নের যথাযথ উত্তর প্রদান করিলেন। এই প্রকার দুর্বোধ্য প্রশ্নের সঠিক উত্তর শুনিয়া হযরত গঙ্গোহী ছাহেব মুগ্ধ হন এবং তাঁহার জন্য দো’আ করেন। ফলে তিনি শিক্ষা সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন জগৎবরেণ্য আলেম হিসাবে প্রসিদ্ধ হইয়া পড়েন।
অধ্যাপনাঃ
পাঠ্য জীবন শেষে ১৩০১ হিজরীতে কানপুর ফয়েযে ‘আম মাদ্রাসায় মাসিক পঁচিশ টাকা বেতনে অধ্যাপনার কাজ আরম্ভ করেন। হাদীস, তীর ও উচ্চস্তরের কিতাবসমূহ কৃতিত্বের সহিত পড়াইতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে ওয়ায নছীহতের মাধ্যমেও জনগণকে মুগ্ধ করিয়া ফেলেন। এদিকে মধুর কণ্ঠস্বর গুরুগম্ভীর সম্বোধন, মার্জিত ভাষা ও অপূর্ব বর্ণনাভঙ্গী, অপর দিকে কোরআন হাদীসের সরল ব্যাখ্যা, মা’রেফাত ও তাছাউফের সূক্ষ্ম বিষয়ের সহজ সমাধান; মোটকথা, ওয়াযের মাহফিলে অফুরন্ত ভান্ডার হইতে অভাবনীয় মূল্যবান তত্ত্ব ও তথ্য বিকশিত হইতে থাকিত। ফলে শ্রোতৃবৃন্দের অন্তরে বিশেষ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হইত। তাঁহার ভাষণ সঙ্গে সঙ্গে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখা হইত।
জনসমাজে হযরত মাওলানার জনপ্রিয়তা দেখিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আর্থিক স্বার্থ লাভের বাসনা জাগরিত হয়। তাঁহারা তাঁহার ওয়ায মাহফিলে মাদ্রাসার জন্য চাঁদা আদায় করার কথা হযরত মাওলানার নিকট ব্যক্ত করিলেন। হযরত মাওলানা এই উপায়ে চাঁদা সংগ্রহ করা এল্মী মর্যাদার খেলাফ ও না-জায়েয মনে করিতেন। তাই তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আবেদন রক্ষায় অসম্মতি জ্ঞাপন করিলেন। ইহাতে কর্তৃপক্ষের মধ্যে পরস্পর নানাপ্রকার কানাঘুষা আরম্ভহইল। এ কথা তাঁহার কর্ণগোচর হইলে তিনি মাদ্রাসার কার্যে ইস্তিফা দেন এবং সরাসরি বাড়ী চলিয়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত করেন। এমে দ্বীন ও দর্শন শাস্ত্রে এমন বিজ্ঞ ব্যক্তি দুর্লভ ভাবিয়া জনাব আবদুর রহমান খান ও জনাব কেফায়াত উল্লাহ্ সাহেবদ্বয় মাসিক ২৫টাকা বেতনে টপকাপুরে অপর একটি মাদ্রাসায় অধ্যাপনার কাজের জন্য তাঁহাকে অনুরোধ করেন। এক্সে দ্বীনের খাতিরে হযরত মাওলানা তাঁহাদের অনুরোধ রক্ষায় সম্মত হন। টপকাপুর জামে মসজিদের নামানুসারে মাদ্রাসার নাম রাখিলেন জামেউল উলুম। আজও কানপুরে এই মাদ্রাসা বিদ্যমান আছে এবং তাঁহার স্মৃতি ঘোষণা করিতেছে।
তিনি একাধারে চৌদ্দ বৎসর জামেউল উলুমে এলমে দ্বীন শিক্ষাদানে মশগুল থাকেন। অতঃপর ১৩১৫ হিজরীর ছফর মাসে স্বীয় মুর্শিদ শায়লুল আরব ও আ’জম কুত্বে আ’লম হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ্ মোহাজেরে মক্কী ছাহেবের অনুমতিক্রমে কানপুরের সংস্রব ত্যাগ করিয়া থানাভবনে আসিয়া উম্মতে মহাম্মদীয়ার সংস্কার সাধনে আত্মনিয়োগ করেন।

« <
/ 6
> »