বেহেশতী জেওর

« <
/ 6
> »

হইয়া পড়েন। একদা তিনি হাফেয গোলাম মোর্তজা ছাহেব পানিপতীর খেদমতে এ বিষয়টি আরয করেন। হাফেয ছাহেব ছিলেন মজ্যব। তিনি বলিলেনঃ “ওমর ও আলীর টানাটানিতেই পুত্র-সন্তানগুলি মারা যায়। এবার পুত্র-সন্তান জন্মিলে হযরত আলীর সোপর্দ করিয়া দিও। ইন্‌শাআল্লাহ্ জীবিত থাকিবে।” তাঁহার এই হেঁয়ালী কেহই বুঝিতে পারিলেন না। পূর্ণ কথার সারমর্ম একমাত্র মাওলানার বুদ্ধিমতী জননীই বুঝিলেন আর তিনি বলিলেন, হাফেয ছাহেবের কথার অর্থ সম্ভবতঃ এই যে, ছেলেদের পিতৃকুল ফারুকী, আর আমি হযরত আলী (রাঃ)-এর বংশধর। এযাবৎ পুত্র-সন্তানদের নাম রাখা হইতেছিল পিতার নামানুকরণে, অর্থাৎ হক শব্দ যোগে রাখা হইয়াছিল। যেমন আবদুল হক, ফজলে হক ইত্যাদি। এবার পুত্র-সন্তান জন্মিলে মাতৃকুল অনুযায়ী নাম রাখিতে-অর্থাৎ আমার ঊর্ধ্বতন আদিপুরুষ হযরত আলী (রাঃ)-এর নামের সহিত মিল রাখিয়া নামানুকরণ এর কথা বলিতেছেন। ইহা শুনিয়া হাফেয সাহেব সহাস্যে বলিয়া উঠিলেন, বাহবা! মেয়েটি বড়ই বুদ্ধিমতী বলিয়া মনে হয়। আমার উদ্দেশ্য ইহাই ছিল। ইহার গর্ভে দুইটি ছেলে হইবে। ইন্‌শাআল্লাহ্ উভয়ই বাঁচিয়া থাকিবে এবং ভাগ্যবান হইবে। একজনের নাম রাখিবে আশ্রাফ আলী, অপরজনের নাম রাখিবে আকবর আলী। একজন হইবে আমার অনুসারী, সে হইবে আলেম ও হাফেয। অপরজন হইবে দুনিয়াদার। বস্তুতঃ তাহাই হইয়াছিল। আল্লাহ্ পাক এক বুযুর্গের দ্বারা হযরত থানভী মাতৃ-গর্ভে আসার পূর্বে অর্থাৎ আলমে আরওয়াহে থাকাকালীন তাঁহার নাম রাখাইয়া দিলেন। আল্লাহ্ পাকের কত বড় মেহেরবানী। কত বড় সৌভাগ্যের কথা।
জন্ম:
হিজরী ১২৮০ সনের ৫ই রবিউসানী বুধবার ছোবহে ছাদেকের সময় হাকীমুল উম্মত জন্মগ্রহণ করেন। হাফে গোলাম মোর্তজা সাহেবের নির্দেশক্রমে নবজাতের নাম রাখা হইল “আশ্রাফ আলী।” তাঁহার জন্মের ১৪ মাস পরে তাঁহার ছোট ভাই আকবর আলীর জন্ম হয়। থানাভবনের অধিবাসী বলিয়া তাঁহাকে থানভী বলিয়া অবিহিত করা হয়।
বাল্যকাল:
মাওলানার পাঁচ বৎসর বয়সকালে তাঁহার পুণ্যশীলা স্নেহময়ী জননী পরলোক গমন করেন; সুতরাং শিশুকালেই দুই ভাই মাতৃস্নেহ হইতে বঞ্চিত হইলেন। কিন্তু পিতা জননীর ন্যায় স্নেহমমতায় উভয় শিশুর লালন-পালন ও তা’লীম তরবীয়তের ব্যবস্থা করিতে লাগিলেন। তিনি উভয়কেই খুব স্নেহ করিতেন। স্বহস্তে গোসল করাইতেন, স্বহস্তে খাওয়াইতেন। পিতার অত্যধিক আদর যত্নের কারণে শিশুরা মায়ের বিচ্ছেদ-বেদনার কথা কখনও অনুভব করিতেই পারে নাই।
শৈশব হইতেই হযরত হাকীমুল উম্মতের চাল-চলন ও আচার-ব্যবহার ছিল পাক-পবিত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তিনি কখনও বাহিরের ছেলেদের সহিত খেলাধুলা করিতেন না। ছোট ভাই আকবর আলীকে নিয়া নিজ বাড়ীর সীমার মধ্যে খেলাধুলা করিতেন। খেলাধুলার সময় ধুলাবালি গায়ে বা কাপড়ে লাগিতে দিতেন না। সময়ে বৃষ্টিতে ভিজিয়া উভয় ভ্রাতা আনন্দ উপভোগ করিতেন। হযরত মাওলানা বাল্যকালে নেহায়েত শান্ত ও সুশীল ছিলেন। তাঁহার সু-মধুর ব্যবহারে বিধর্মীরাও তাঁহাকে অত্যন্ত স্নেহের চক্ষে দেখিত।
সাধারণতঃ ছেলেরা মসজিদে বা উৎসব উপলক্ষে শিরনী-মিঠাই ইত্যাদি পাইবার সুযোগ গ্রহণ করে। হযরত মাওলানার বিচক্ষণ ও দূরদর্শী পিতা ইহা আদৌ পছন্দ করিতেন না। তিনি বরং

« <
/ 6
> »