আমার বয়স ৪৩ (এখন পুরো পৃথিবী জানে আমার বয়স) হলেও মা আমাকে এখনো কোলের শিশুই মনে করেন। আমি যেন পরিবারের সেই ছোট্ট মেয়েটি। আমি মাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকলেও তাঁর উদ্বেগ বেড়েই যাচ্ছিল। যখনই আমি আকণ্ঠ বিপদে নিমজ্জিত হই এবং এর পেছনে কোনো পুরুষের দায় থাকে, তখনই জয়েস জিম মুরের প্রতি বন্দুক তাক করেন। মা তখন পারলে সেই ব্যক্তিকে একরকম খেয়েই ফেলবেন। তিনি ভাবেন, ওই পুরুষ ব্যক্তি আমাকে রাশিয়ার পতিতালয়ে বিক্রি করে দেবেন এবং তিনি কখনোই আর আমার দেখা পাবেন না।
এরই মধ্যে বাবাও ফোনে চলে এলেন এবং তিনি আমাকে ফিরতি ফ্লাইট ধরেই লন্ডন চলে আসার আদেশ দিলেন। আমার আরও দায়িত্বশীল চাকরি খোঁজা উচিত বলেও তিনি জানালেন। যদিও মা-বাবার চিন্তা করাটা যৌক্তিক, তবে একই সঙ্গে ভয়ও লাগছিল, নতুন বসের কাছে আমার মানসম্মান ধুলোয় মিশে যেতে পারে। আমি মাকে উল্টাপাল্টা কিছু না করতে অনুরোধ জানালাম এবং সতর্ক করে দিলাম, যদি আমার অফিসে মা ফোন দেন, তাহলে আমি সবার কাছে হাসির পাত্র হয়ে যাবো।
মনে পড়ে গেল শেষ যখন তাঁরা আমাকে একটা উপযুক্ত চাকরি খুঁজতে বলেছিলেন। আমি তখন নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এ কাজ করতাম। এক সপ্তাহ বাবা-মা আমার সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন। রাত দুইটার দিকে এক পার্টি শেষে বাসায় ফিরেছিলাম। পরনে ছিল টাইট জামা, পিভিসি স্কার্ট, উদ্ভট একটা গলাবন্ধনী ও কতগুলো রং-বেরঙের রুমাল ঝুলছিল কোমরের বেল্ট থেকে।
আমি প্রায় লুকিয়ে বাসায় ঢুকেছিলাম। একটু পরই মা একটা গরম চকলেট ড্রিংকস নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। আমার সাজপোশাক দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মা যেন আবার আমাকে পতিতা ভাবতে শুরু না করেন তাই বললাম, সংবাদ সংগ্রহের জন্য ছদ্মবেশে একটা পার্টিতে গিয়েছিলাম। মা এরপরও আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সম্মানের চাকরি বেছে নিতে বললেন।
আমি জানি, কাঁধে অনেক দায়িত্ব নিয়ে ঘুরি। বিশেষ করে, ডেইজির জন্য আমার অনেক কিছু করতে হবে। তবে আমি মেয়ে ও চাকরি দুটোকেই সমান ভালোবাসি। আমার মতে, দায়িত্ব কখনোই কাজের প্রতিপক্ষ হতে পারে না। বিশেষ করে, কন্যাসন্তানের মা হওয়া মানে এই নয় যে, আমি
