ইন দা হ্যান্ড অব দা তালেবান

« <
/ 24
> »

আমি আমার বস জনের নিকট ভ্রমণ খরচ বাবদ দুই হাজার পাউন্ড দাবি করতেই আমার বস প্রায় হার্ট অ্যাটাক করে বসলেন। এত টাকা বাজেটে নেই বলে তিনি আমাকে দিতে অক্ষমতা ব্যক্ত করলেন। এতে দমে না গিয়ে আমি বসকে সোজাসাপটা জানিয়ে দিলাম-আমি আমার স্বামীর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সব খরচ মিটিয়েছি এবং যদি তাঁকে আমার উপসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণের খরচ মেটাতে হয়, তাহলে তিনি যেন নিজ দায়িত্বে আমাকে তা জানিয়ে দেন।
তবে কিছুদিন পরই জিম ও তাঁর সহকারী প্রতিবেদন বাজেট তন্ন তন্ন করে ঘেঁটে টাকাটা বের করতে সমর্থ হলেন। নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দে কিছু টাকা অতিরিক্ত পড়ে ছিল এবং তা দিয়েই তাঁরা আমার খরচ মেটালেন। তবে খরচটা মোটেই বেহুদা ছিল না। আমি আর মাইক প্রচুর ছবি ও গল্প নিয়ে ফিরে আসি, যা সানডে সান-এর উপসাগরীয় যুদ্ধের পুরোটা সময়ের সংবাদ ছাপানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
জন এরপর ডেইলি রেকর্ড ও স্কটল্যান্ডে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি এডিনবার্গভিত্তিক স্কটমিডিয়ার সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য।
তবে যা-ই হোক, নতুন সহস্রাব্দের শুরুতে ২০০১ সালে আবার দুবাই এসে আমি ইসলামাবাদে কাজ করার পরিকল্পনা সাজাতে লাগলাম। কাজটা আমার কাছে একই সঙ্গে সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মতো। যদিও আমি নিউ ইয়র্কে যেতে চেয়েছিলাম, তবে ওখানকার পরিস্থিতি ও মানুষের কষ্ট দেখে শহরটাকে ঘিরে আমার সুখস্মৃতিগুলো মুছে যেতো।
হ্যাঁ, ওই সময় জিম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নিউ ইয়র্কে যা ঘটার ঘটে গিয়েছে। এই দৃশ্যের পরবর্তী অংশগুলো ইসলামাবাদকে ঘিরেই বাস্তবায়িত হবে। ভয়ংকর মর্মস্পর্শী এই হামলার পরবর্তী ইতিহাস নিউ ইয়র্কেই লেখা হবে।
ওই মুহূর্তে আমার মায়ের ফোন এলো। চিন্তা করে দেখুন, মা কী পরিমাণ অবাকই না হয়েছিলেন, যখন তিনি আমি নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছি কি না জানতে চাইলেন আর আমি বললাম যে আমি ইসলামাবাদ! তিনি ভয়ার্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন-কেন আমি ইসলামাবাদ যাচ্ছি? আমি অভয় দিয়ে মাকে চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করলাম। আমার বলা উচিত ছিল, যেন শয়তানের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করতে যাচ্ছি।

« <
/ 24
> »