সংগ্রহের জন্য এশিয়ার দিকে ধাবিত হওয়াই একজন বুদ্ধিমান অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাজ। প্রচণ্ড অনিচ্ছাসত্ত্বেও বসের আদেশ শিরোধার্য বলে কোনো রকমে ইসলামাবাদ যেতে রাজি হলাম। তবে ওই দিন ব্রিটিশ বিমান পাকিস্তানগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছিল। কেউ একজন সামনের টার্মিনালে গিয়ে এমিরেটসে টিকিট কাটার পরামর্শ দিল।
গোমড়া মুখে এমিরেটসের কাউন্টারের দিকে ধাবিত হলাম। সেখানকার একজন কর্মকর্তা আমাকে দুবাই হয়ে লাহোর যাওয়ার টিকিট ক্রয়ের পরামর্শ দিলেন। লাহোর থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ধরে আমি ইসলামাবাদ যেতে পারবো বলে তাঁরা জানালেন। গজরাতে গজরাতে বিমানবন্দরের মেঝেতে হিল জুতো ঠুকে ঠুকে এমিরেটসের বিমানে ওঠার জন্য এগিয়ে গেলাম। চতুর জিমকে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদ যাচ্ছি বলে জানিয়ে দিলাম। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে বিমানটা ছিল বিলাসবহুল ও আরামদায়ক। সিটে বসে জোনসের সিনেমা দেখতে লাগলাম। সাধারণত, যাত্রাপথে আমি বই পড়ি। তবে তখন কিছুই ভালো লাগছিল না।
মুভি শেষ হয়ে এলে সামনের কম্পিউটার পর্দায় দাবা খেলতে শুরু করলাম। কম্পিউটারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে যখন প্রায় হারিয়ে দিয়েছি, তখন বিমানের চাকা দুবাইয়ের মাটি ছুঁয়েছে।
দুবাই আমার পছন্দের শহর। অনেক সুখস্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই শহর। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় আমি নিউক্যাসলের সানডে সান-এ কাজ করি। তখন চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করত মাইক স্কট। যুদ্ধের ছবি তুলতে গিয়ে আমি আর মাইক তখন ছোটখাটো হারকিউলিস বিমানে করে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আকাশে রুদ্ধশ্বাসে চক্কর দিয়েছি।
বুদ্ধিটা তখন ভালোই কাজে দিয়েছিল এবং প্রায়ই আমরা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা রাজকীয় যুদ্ধজাহাজের বহরের বিভিন্ন রণতরিতে ঘুমিয়েছি। সবকিছুই হিসাবমতো এগোচ্ছিল, শুধু শেষ ফ্লাইটের আগে আমরা হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় দুবাইতে আটকা পড়ে গেলাম।
আমার কাছে তখনো আমার দ্বিতীয় স্বামীর ক্রেডিট কার্ড ছিল। তাই দুবাইতে অবরুদ্ধ থাকার এক সপ্তাহ ক্রেডিট কার্ডটির সদ্ব্যবহার করলাম। ওখানকার বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেছিলাম আর পুরো শহর চষে বেড়িয়েছি।
