সুখে-দুঃখে কাটিয়েছি। এর পরে ইসরায়েলি রনি হেমশের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধি। দুই বছর পর আবার পুরোনো চক্রেই আমার বিয়ের ভাগ্য ঘুরপাক খেতে লাগল। আবার পৃথক হয়ে গেলাম। তবে দাউদের সঙ্গে আমার এখনো যোগাযোগ আছে। কিন্তু রনির সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে কোনো দিন যোগাযোগ হয়নি।
যা-ই হোক, দুবাই বিমানবন্দরের বিশাল চত্বরে দাঁড়িয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনটা অস্থির হয়ে গেল। লাইনটা কেটে দিয়ে একটু সামনে এগোতেই সুন্দর একটা সামুদ্রিক খাবারের দোকান চোখে পড়ল। মায়ের ওপর রাগ ঝারতে একটা মাছের ডিম, লবস্টার ও আরও কিছু সামুদ্রিক মাছের অর্ডার করলাম। মা আমার ছোটখাটো অপব্যয়গুলো একদমই সহ্য করেন না। আজ টাকা একটু বেশি খরচ হলে হোক। খাবারটা বেশ সুস্বাদু ছিল এবং চেটেপুটেই সব শেষ করলাম। পাকিস্তান যাওয়ার পর এভাবে ইচ্ছামতো আরাম করে খাওয়ার সুযোগ মিলবে না, তা আগেই আন্দাজ করে নিয়েছিলাম।
গরম ও মসলাদার খাবার আমার একদমই পছন্দ নয়। ফলমূল ও সবজিও আমার পেটে সয় না। পাকিস্তানের অখাদ্য খাবার দিয়ে ক্ষুধা মিটবে কি না তা ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ল, ক্ষুধা মেটাতে সিগারেটই যথেষ্ট।
ওয়াইনের শেষ ফোঁটাটুকু পেটে চালান করে দিলাম। মুখে একটা বিজয়ের হাসি ফুটে উঠল। মায়ের সঙ্গে এ যাত্রা জিতে গেলেও যুদ্ধক্ষেত্রে এখনো জেতা হয়নি। আমি খোদার কাছে মিনতি জানালাম, মা যেন আমার সম্পাদককে ফোন না দেন। কবে জানি মা আমার পেছনে গোয়েন্দা লাগান অথবা আমার লেখার কাগজে বিষ মিশিয়ে রাখেন, মা সম্পাদককে ফোন দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিবেদক সন্তানকে দূরে পাঠানোর জন্য তিরস্কার করছেন, দৃশ্যটা আমার জন্য কতোটা অপমানের।
আমি মা ও বাবাকে যথেষ্ট পরিমাণ ভালোবাসি। তবে আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা আমার পছন্দ নয়। মাঝেমধ্যে ভয় লাগে, ডেইজি বড় হলে আমিও কি এমন অতিরিক্ত স্নেহপ্রবণ হয়ে যাব? তবে ডেইজি মোটেও হেঁয়ালি মেয়ে নয়। ও অনেকটা শক্ত ধাতুতে গড়া। ও জীবনেও যা-ই করুক না কেন, আমার বিশ্বাস তা কখনোই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না। এতো বিশ্বাস আমার ওর বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি দেখেই জন্মেছে।
