আমার ভালোবাসার পেশাটাকে বিসর্জন দেবো। সাংবাদিক ছাড়া সাংবাদিকদের দুঃখ কেউ বোঝে না। তাই একজন সাংবাদিকের পক্ষে অন্য পেশার কারও সঙ্গে ঘরসংসার টিকিয়ে রাখা দুরূহ ব্যাপার।
আমার প্রথম স্বামী কিম ছিল আমার বাল্যকালের বন্ধু। সে সাংবাদিকতাকে ঘৃণার চোখে দেখত। তার মতে, এটা একেবারেই অসম্মানের এবং এর জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। নয়টা-পাঁচটার নির্ধারিত অফিসে কাজ করলে ও আরও খুশি হতো বলে আমি নিশ্চিত। বিয়ের পরপরই আমি ফ্লিট স্ট্রিটে ডেইলি মেইল-এর চাকরি ছেড়ে নন্দার্ন ইকোতে যোগ দিই। অথচ, কিমের গলা যেন টাইনে ব্রিজের সঙ্গে বাঁধা ছিল। আমার সঙ্গে দেখা করার সময়ই পেত না সে।
এক বছরের কম সময়ের মধ্যেই আমাদের সংসার নরকে পরিণত হলো। আট বছরের একটা সম্পর্কের বাঁধন আলগা হয়ে এল। প্রায় দুই বছর পর আমি পুলিশের আঞ্চলিক অপরাধ বিভাগের সার্জেন্ট জিম ম্যাকিন্টোশকে বিয়ে করি। আমার চেয়ে ২০ বছরের বড় হওয়া সত্ত্বেও সে খুবই সুদর্শন ছিল। তার চাকরিতে সে ভালোই সুনাম অর্জন করেছিল। আমার দিনও বেশ চলে যাচ্ছিল। ওই সময় আমি প্রথমে নিউক্যাসল জার্নাল-এ কাজ করতাম। পরে সাপ্তাহিক সানডে সান-এ যোগ দিই। সেখানে আমার প্রথম রবিবারের সাপ্তাহিকে কাজ করার প্রথম অভিজ্ঞতা হয়।
আবারও ফ্লিট স্ট্রিট ঝামেলা পাকায়। এই সড়কে প্রচুর সংবাদপত্রের অফিস রয়েছে। কিম কিছুতেই লন্ডনে আসতে চাইত না। কিম টাইনে ব্রিজের সঙ্গে আঠা দিয়ে লেগে থাকলেও জিম যেন আসন পেতে বসে ছিল সেখানে।
আমি অবশ্যই ব্যক্তিত্বে বিশ্বাস করি। তাই জিমকে যতই উগ্রবাদী বলে গালি দিতাম না কেন, তাতে করে ঝগড়ার সুতা টানা সম্ভব হয়নি। বোকার স্বর্গে থাকাটা সুখকর হলো না। এর পরের কয়েক বছর এখানে-সেখানে স্থানীয় পত্রিকার অফিসে দৌড়াদৌড়ি করে বেড়ালাম। তবে প্রতিটা অফিস থেকেই একটু একটু করে অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারী করে বের হতাম। নিজস্ব সাংবাদিকতার জগতে একটু একটু করে পরিচিতি বাড়তে লাগল। ১৯৯০ সালের দিকে আমি আর জিম বহুদূরে চলে গেলাম। এর পরই মনে হয় জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল করে বোধ হয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলাম। দুই বছর পর হঠাৎ ডেইজির বাবা দাউদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। চার বছর আমরা
