ইন দা হ্যান্ড অব দা তালেবান

« <
/ 24
> »

এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার টিকিটের কাউন্টারে বিশাল লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে গেল। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা প্রত্যেককেই নিউ ইয়র্ক যাওয়ার কারণ বিস্তারিত জানতে চাইছেন। অতীব গুরুত্বপূর্ণ না হলে অনেককেই তাঁরা এ যাত্রা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। প্রচুর আমেরিকান নাগরিক হিথরো বিমানবন্দরে আশঙ্কায় সময় কাটাচ্ছেন, তাই এ ব্যবস্থা। আমি একটু ভয় পেলাম। কারণ, অনেক আমেরিকান দুর্ভাগা নাগরিক আমার সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে, যাঁরা তখনো জানতেন না তাঁদের স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।
মা কিছুক্ষণ পরপর ফোন করে টিকিট পেলাম কি না জানতে চাইছেন। আমার মা খুবই ইতিবাচক ধরনের এবং সব সময় উৎসাহ দিয়ে থাকেন। এই দুর্দিনে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছি শুনে তিনি একবারও না করেননি বরং অন্য সবার মতো সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা জানতে তিনিও উদ্‌গ্রীব ছিলেন।
মাকে শান্ত থাকতে বললাম। এদিকে ডেইজির ছুটি হবে কয়েক দিন পরই। তাই আমার আসতে দেরি হলেও মা-বাবা যেন ডেইজিকে বাড়ি নিয়ে আসেন, এর জন্য অনুরোধ জানালাম। মা-বাবার ওপর ডেইজির দায়িত্ব দিয়ে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার জন্য একটু সাহস পেলাম।
অপেক্ষার পালা যেন আর শেষ হচ্ছিল না। যখন কাউন্টারের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছি, ঠিক তখনই আমার বস জিম ফোন করল। জিমের কথা শুনে আমি বিমূঢ় হয়ে গেলাম। নিউ ইয়র্কগামী বিমানের টিকিট কাটার আগ মুহূর্তে জিম আমাকে টিকিট কাটতে নিষেধ করল। পরিবর্তে তক্ষুনি ইসলামাবাদের ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি নিতে বলল। আমার মাথা যেন কাজ করছিল না। নিউ ইয়র্ক যাওয়ার জন্য আমি ব্যাগ গুছিয়েছি, এশিয়ার কোনো বিশ্রী বাজে শহরে সময় কাটানোর জন্য নয়। মনে মনে পরিস্থিতিকে গালি না দিয়ে থাকতে পারলাম না।
ওই মুহূর্তটায় জিমকে খুব অপরিচিত লাগছিল। যদিও জিমের সঙ্গে পরিচয় বেশি দিনের নয়, তবে ও অনেক গুছিয়ে কাজ করে। আজকাল নারী প্রতিবেদকদের সঙ্গে কাজ করতে অনেক সম্পাদক অস্বস্তিতে ভোগে। অথচ জিম মোটেই এমন নয়।
কথা বলতে বলতে জিমের বিচারবুদ্ধি নিয়ে আমার সন্দেহ হতে শুরু করল। ইসলামাবাদ যেতে আমি অনিচ্ছুক-টের পেয়ে জিম জানাল, নিউ ইয়র্কে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের যোগসূত্র রয়েছে বলে ইতিমধ্যেই খবর বেরিয়েছে। তাই পরবর্তী সংবাদ

« <
/ 24
> »