ভয়ে ভয়ে আমরা মার্টিনকেও আমাদের সঙ্গে নিয়ে নিলাম। পথে ফ্লিট স্ট্রিটে পিৎজা খাওয়া ও সস্তা ড্রিংকসের পর্ব চলল।
মার্টিন ততোক্ষণে আমাদের সঙ্গে আড্ডা জমিয়েছে। ও জানাল, এটা খুবই বিব্রতকর বিষয়। তবে যা-ই হোক, সারা দিন অনেক ধকল যাওয়ায় সময়টা ভালোই কাটল। পরিস্থিতি সহজ করতে আমি বললাম, ছোটবেলায় বিস্কুট খাওয়ার জন্য যখনই বয়ামে হাত দিতাম, তখনই মার কাছে ধরা খেতাম।
সবাই বাড়ি চলে গেলে আমিও জেরিতে চলে এলাম। এটা দারুণ সুন্দর ও ভদ্র জায়গা। যতোই চিৎকার-চেঁচামেচি অথবা কান্নাকাটি করা হোক না কেন, উপস্থিত কেউই একবারের জন্যও ভ্রু কুঁচকে তাকাবে না।
পরদিন শুক্রবার সকাল সকাল হিথরো চলে এলাম। এখানে একজন বেশ দৃঢ় চরিত্রের আমেরিকান মহিলার সঙ্গে পরিচয় হলো। ভদ্রমহিলা আমেরিকার পশ্চিম দিকের এক রাজ্যে বাস করেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে এসেছিলেন। ওদের দেখে আমার নিজের পরিবারের কথা মনে পড়ে গেল। জয়েস, আমি, দুই বোন ভিভ ও জিল। কত সুন্দর সময়ই না আমরা পার করে এসেছি।
এই আমেরিকান পরিবার আটলান্টিকের ওপর দিয়ে সব বিমানপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও হিথরো বিমানবন্দর ছেড়ে যেতে অস্বীকার করে। চালু হওয়ার পর প্রথম ফ্লাইটেই নিউ ইয়র্ক যাওয়ার জন্য তাঁরা সীমাহীন ধৈর্য নিয়ে বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন। কর্তৃপক্ষও যথাসাধ্য কেক ও কফি দিয়ে তাঁদের যথাসাধ্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে।
অবস্থা লক্ষ করে আমি তাঁদের এক বেলা খাবার নিমন্ত্রণ করলাম। ভদ্রমহিলা সানন্দে রাজি হয়ে গেলেন। খেতে খেতে আমি তাঁদের ব্রিটেন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলাম। তবে খুব একটা অভিজ্ঞতার বর্ণনা পাওয়া গেল না। হামলার পর থেকেই তাঁরা নিউ ইয়র্কে স্বজনদের নিয়ে খুব চিন্তায় আছেন এবং কখন প্রিয়জনদের মুখগুলো দেখতে পাবেন, সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
অথচ ১১ সেপ্টেম্বর ঘটনার সময় তাঁরা নিউ ইয়র্কের পথে আকাশেই ছিলেন। মাঝপথেই তাঁদের বিমান ঘুরিয়ে হিথরো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। হিথরোতে নামার আগে তাঁরা পুরো ঘটনা আঁচ করতে পারেননি।
