ইন দা হ্যান্ড অব দা তালেবান

« <
/ 24
> »

কোনোটিই পরিপূর্ণ যুক্তিসংগত নয় বলে চুপ রইলাম। মাইককে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিতে খুব ইচ্ছা হলো। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে, এত বড় হামলার পরে কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না।
আমি আমেরিকাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। খাবার কেনার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না, দ্রুতই সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, এ ধরনের জায়গা আমার খুব প্রিয়। লন্ডনের অধিকাংশ জায়গায় তা অনুপস্থিত। আমেরিকান লোকেরা ব্রিটিশদের মতো এত কঠিন মনের অধিকারী নয়। বহির্বিশ্বের কেউ তাদের অপছন্দ বা ঘৃণা করতে পারে, এটা জানার পর তারা সত্যিই খুব অবাক হবে। অন্যদিকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ব্রিটিশদের গায়ের চামড়া শুধু মোটাই হয়েছে। কেনইবা হবে না? ইংরেজরা এক হাতে বাইবেল ও অন্য হাতে তলোয়ার ধরে সারা পৃথিবী শাসন করেছে। ৩০ বছর ধরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চলমান থাকায় সন্ত্রাসী হামলাকে ব্রিটিশরা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে আমেরিকার জনগণের পক্ষে এই শোক কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগে যাবে।
সারা দিন আমার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে ই-মেইলে কথা চালাচালি করলাম। ওর অসহায়ত্ব দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল। অথচ ১১ তারিখের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ও শুধু পরবর্তী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত ছিল। অন্য কিছু ভাবার ফুরসত ছিল না।
সন্ধ্যা আটটার সময় নগর সংস্করণের সম্পাদক রিচার্ড ফিলিপস ও আমার খুব কাছের বন্ধু মাইককে সঙ্গে নিয়ে অফিস ত্যাগ করলাম। মার্ক বর্তমানে ব্যবসা ও পত্রিকা নিয়ে খুবই সক্রিয়।
বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। থেমে থাকা এক ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাছে গিয়ে মিথ্যা ভয় দেখালাম যে ট্যাক্সি কোম্পানিতে আমরা ফোন করেছি। তবে এত কিছুর দরকার ছিল না, সে এমনিতেই আমাদের তিনজনকে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে নিল। এমন সময় মার্টিনকে দেখে আমরা প্রায় পালিয়ে চলে গেলাম। মার্টিন লুডগেট থেকে বের হয়ে দ্রুত একটি ট্যাক্সি খুঁজছিল।
কিন্তু বিধিবাম! পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না। মার্টিনের হাতে একেবারে হাতেনাতে ধরা খেলাম। ও খুব রেগে গিয়ে আমাদের ডাকাত বলে সম্বোধন করল। রাগে গজরাতে গজরাতে মার্টিন বলল, যাদের ও চাকরি দিয়েছে তাদের থেকে এর বেশি কিছু সে আশাই করে না।

« <
/ 24
> »