ইন দা হ্যান্ড অব দা তালেবান

« <
/ 24
> »

ওরেব্বাস! দীর্ঘ সময় একবার চিন্তা করে দেখুন, এই সময়টুকুর মধ্যে না জানি আপনি কত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে ফেলছেন। এর বাইরেও একটু তথ্য দিয়ে রাখি, অধিকাংশ মানুষ নাকি ঘুমের মধ্যেই ইহলোক ত্যাগ করে। তাই, ঘুম খুব ভয়ংকর, যতোটা পারি আমি নিদ্রাদেবীর থেকে অন্তরালে থাকার চেষ্টা করি।
বৃহস্পতিবার একটি ব্যস্ত দিন কাটিয়ে রাত তিনটায় বাড়ি ফিরলাম। ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে প্যাডিংটন স্টেশনে গিয়ে হিথরো এক্সপ্রেসের অপেক্ষায় থাকলাম। নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইট অবশেষে ধরতে পারবো। তবে স্টেশনে গিয়ে জানতে পারলাম ভোর পাঁচটার আগে কোনোভাবেই যাওয়া সম্ভব নয়। অগত্যা কনকনে ঠাণ্ডায় স্টেশনেই অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। বিমানে ওঠার পরে বাকি থাকা ঘুম পূরণ করা যাবে। একলা বসে থাকতে দেখেই কিনা স্টেশন মাস্টারের মনে দয়ার উদ্রেক হলো। তিনি নিজ উদ্যোগেই স্টেশনের একটা কক্ষে বসার সুযোগ করে দিলেন। কক্ষে ঢুকেই ঘুমে ঢলে পড়লাম। কী দুর্ভাগা আমি!
ভোর পাঁচটায় স্টেশন মাস্টার এসে জাগিয়ে দিয়ে গেলেন। হিথরো যাওয়ার পথে শীত একদম জেঁকে বসলো। আমার চামড়ার মোটা জ্যাকেটটা একদমই শীত তাড়াতে পারছে না। কাঁপতে কাঁপতে বিমানবন্দরে এসে টের পেলাম নিউ ইয়র্ক যাওয়া হচ্ছে না। নিউ ইয়র্কগামী ফ্লাইট বাতিল। মনে মনে দুঃখিত হলেও ভাগ্যের পরিহাসে হেসে দিলাম। যা-ই হোক, কুয়াশাঢাকা ভোর। অতএব, পছন্দের বেকন স্যান্ডউইচ খেতে খেতে কফির পেয়ালায় একটা চুমুক তো দেওয়াই যায়।
আমেরিকা যখন স্তম্ভিত ও শোকে মুহ্যমান, তখন কোনো ব্রিটিশ সাংবাদিকের পক্ষেই নিউ ইয়র্ক যাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। আমেরিকার উড্ডয়ন সীমান্ত তখন পর্যন্ত চালু হয়নি। অফিসের আরও কিছু কাজ করতে করতে সম্পাদক জিমকে বললাম, পরদিন সকালে নিউ ইয়র্কগামী বিমানে চেপে বসার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি একটু বেশিই আশাবাদী হলাম। কারণ, ১১ সেপ্টেম্বরেই আমি টিকিট কেটেছিলাম।
এমন মুহূর্তেই কম্পিউটারের স্ক্রিনে নতুন ই-মেইলের বার্তা ভেসে উঠলো। মিনোপলিস থেকে আমার চাচাতো ভাই মাইক মেইলটা পাঠিয়েছে। ও ছিল ভীতসন্ত্রস্ত এবং কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না কেন আমেরিকার ওপর হামলা করা হলো। আমি অনেকগুলো কারণ দর্শাতে পারতাম কিন্তু

« <
/ 24
> »