যুগের গৌরবময় স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে মানুষকে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর নশ্বরতা সম্পর্কে এক গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা দান করে।
অনেকে এই ঐতিহাসিক শিক্ষা আরও নিবিড়ভাবে লাভের উদ্দেশ্যে সেই কাঠের তক্তাগুলোর নিচে দু-একটি চাকা জুড়ে দেন এবং সামনে লোহার হুক লাগিয়ে তাতে একটি ঘোড়াকে ‘ঝুলিয়ে’ দেন। লাহোরী পরিভাষায় এই বিচিত্র জান্তব যানটিকে ‘টাঙ্গা’ বলা হয়। শৌখিন ও বিলাসী আরোহীরা আবার এই তক্তাটির ওপর পিচ্ছিল ‘মোম-ক্লথ’ (মোমজামার কাপড়) মুড়িয়ে নেন, যাতে তক্তা থেকে আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়াটি মসৃণ হয় এবং লব্ধ শিক্ষার গভীরতা আরও বেশি অনুভূত হয়।
লাহোরের প্রকৃত ও হৃষ্টপুষ্ট ঘোড়াগুলো সাধারণত খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। কসাইয়ের দোকানে সেগুলোর মাংস অত্যন্ত যত্নের সাথে বিক্রি হয় এবং রসনাবিলাসী লাহোরীরা তা পরম তৃপ্তিতে ভক্ষণ করে। তবে টাঙ্গা টানার মতো কায়িক শ্রমের জন্য সেখানে ব্যবহৃত হয় এক বিশেষ প্রজাতির ‘বনস্পতি ঘোড়া’। এই বনস্পতি ঘোড়াগুলো দেখতে অনেকটা আকাশের ধূমকেতুর মতো—যার কবন্ধের চেয়ে লেজের দৈর্ঘ্যই বেশি দৃষ্টিগ্রাহ্য। চলাচলের সময় এই প্রাণীটি অত্যন্ত সন্তর্পণে নিজের লেজটিকে গুটিয়ে রাখে। এর এই অসামান্য আত্মনিয়ন্ত্রণ ও গাম্ভীর্যের কারণে গতির মাঝে এক প্রকার অলৌকিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ, রাস্তার প্রতিটি ঐতিহাসিক গর্তের আঘাত এবং টাঙ্গার প্রতিটি প্রবল ঝাঁকুনি আপনার অন্তরাত্মা পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। এতে করে আপনার শরীরের প্রতিটি লোমকূপ এক অবর্ণনীয় ও স্বর্গীয় আনন্দ উপভোগ করতে পারে।
দর্শনীয় স্থান ও স্থাপত্যকলা
লাহোরে প্রকৃত দর্শনীয় স্থান বা স্থাপত্যশৈলী খুঁজে বের করা এক দুঃসাধ্য সাধনা। এর প্রধান কারণ হলো, লাহোরের ভবনগুলোর বহিঃপ্রাচীর নির্মাণের এক অনন্য ও রহস্যময় প্রকৌশল। এখানকার প্রতিটি ভবনের দেয়াল মূলত দুটি স্তরে গঠিত হয়। প্রথম স্তরে ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে আদি দেয়ালটি তোলা হয় এবং ঠিক তার ওপর দ্বিতীয় স্তর হিসেবে লেপে দেওয়া হয় রকমারি বিজ্ঞাপনের ঘন প্রলেপ। কালক্রমে এই বিজ্ঞাপনের আস্তরণ এতটাই পুরু হতে থাকে যে, মূল দেয়ালটি ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয় অত্যন্ত বিনম্রভাবে—ছোট আকারের, অস্পষ্ট এবং অচেনা সব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। যেমন: “লাহোরবাসীর জন্য সুসংবাদ” অথবা “সুলভ মূল্যে সেরা পণ্য”। এরপর আসে সেই সব বিজ্ঞাপনের পালা, যাদের লক্ষ্যবস্তু হলো সমাজের তথাকথিত বিজ্ঞ ও পণ্ডিতজন। দেয়ালের গায়ে তখন শোভা পায় “গ্র্যাজুয়েট দর্জি হাউজ”, “ছাত্রদের
