মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

জন্য দুর্লভ ও সুবর্ণ সুযোগ” কিংবা অত্যন্ত রহস্যময় শিরোনাম—“লোকে আড়ালে কী বলে আমাদের?”।

 

ধীরে ধীরে একটি সাধারণ বসতবাড়ির চারপাশের দেয়াল একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন্ত ডিরেক্টরির রূপ ধারণ করে। বাড়ির সদর দরজার ঠিক ওপরে হয়তো জ্বলজ্বল করছে বুট পালিশের বিজ্ঞাপন। ডান দিকে তাকালে চোখে পড়বে টাটকা ও খাঁটি মাখন পাওয়ার গোপন ঠিকানা। বাম দিকে স্মৃতিশক্তি ও মেধা বৃদ্ধির অব্যর্থ মহৌষধের সচিত্র বর্ণনা। কোনো এক জানালার ওপর হয়তো সাঁটানো আছে “আঞ্জুমানে খুদ্দামে মিল্লাত”-এর আসন্ন সভার বিস্তারিত কর্মসূচি। ঠিক পাশের জানালার কার্নিশে কোনো এক কালজয়ী নেতার ব্যক্তিগত জীবনের রোমাঞ্চকর সব গোপন তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাড়ির পেছনের দেয়ালে সার্কাসের হিংস্র প্রাণীকুলের তালিকা এবং আস্তাবলের দরজায় নায়িকা মিস নগমাহ্ জান-এর মোহনীয় প্রতিকৃতিসহ তার নবীন চলচ্চিত্রের গুণকীর্তন করা হয়।

 

এই বিজ্ঞাপনগুলো ঋতু পরিবর্তনের চেয়েও দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হতে থাকে। প্রতিটি নতুন সুসংবাদ, প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক সূত্র কিংবা কোনো রাজনৈতিক বিপ্লবের পয়গাম মুহূর্তের মধ্যে শহরের প্রতিটি স্থাবর বস্তুর ওপর লেপে দেওয়া হয়। এই কারণে ভবনগুলোর বাহ্যিক অবয়ব প্রতি মুহূর্তেই ভোল পাল্টাতে থাকে, যার ফলে খোদ শহরবাসীদের পক্ষেই নিজের এলাকা চিনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

 

তবে ইদানীং লাহোরে এক নতুন ও স্থিতিশীল প্রথার প্রচলন হয়েছে। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনের বয়ান এখন আর কাগজে না ছেপে সরাসরি পাকা কালি দিয়ে দেয়ালে খোদাই করে দেওয়া হয়। এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের ফলে সেই বিড়ম্বনা অনেকটা দূর হয়েছে। এই স্থায়ী দিকনিশানার কল্যাণে এখন আর সেই আশঙ্কা নেই যে, কোনো ব্যক্তি নিজের কিংবা প্রিয় বন্ধুর বাড়িটি হারিয়ে ফেলবেন—কেবল এই কারণে যে, যাওয়ার সময় সেখানে “চৌকির বিজ্ঞাপন” ছিল আর ফেরার পথে সেখানে “সস্তা ও টেকসই জুতার সুসংবাদ” ঝুলে আছে।

 

ফলে, বর্তমান লাহোরে পথ চেনার নতুন ও নির্ভুল সূত্রগুলো এমন দাঁড়িয়েছে: যেখানে বিশাল হরফে লেখা দেখবেন “মুহাম্মদ আলী দাঁতের ডাক্তার”, নিশ্চিত জানবেন সেটিই হলো ‘ইনকিলাব’ পত্রিকার সদর দপ্তর। যেখানে দৃষ্টিগোচর হবে “বিদ্যুৎ, জল ও বাষ্পের বড় হাসপাতাল”, বুঝে নেবেন সেখানেই বাস করেন ডক্টর ইকবালের মতো মনীষী। “খাঁটি ঘিয়ের মিষ্টি” লেখা বিজ্ঞাপনটি আসলে ইমতিয়াজ আলী তাজের বাসভবনের পরিচয় বহন করছে। “কৃষ্ণা বিউটি ক্রিম” আপনাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে ঐতিহাসিক শালিমার বাগানের দিকে, আর “কাশির

« <
/ 22
> »