একটি করে খরস্রোতা নদীর সৃষ্টি হবে। কালক্রমে সেই নদীতে মৎস্যকুলের উদ্ভব ঘটবে এবং প্রতিটি মাছের উদরে কমিটির নামাঙ্কিত একটি করে আংটি সংরক্ষিত থাকবে। নির্বাচনী মৌসুমে প্রতিটি ভোটার সেই আংটি পরিধান করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন—এমন এক সুদূরপ্রসারী ও রোমাঞ্চকর স্বপ্ন কমিটি শহরবাসীকে দেখিয়েছে।
নিজাম সাক্কার সেই জরাজীর্ণ পাণ্ডুলিপি থেকে এটুকু অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নগরীতে পানি পৌঁছানোর জন্য ‘নল’ বা পাইপ একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সেই ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, কমিটি রাজকোষের কোটি কোটি মুদ্রা ব্যয় করে শহরের অলিতে-গলিতে অসংখ্য নল স্থাপন করেছে। আপাতত এগুলোতে কেবল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস ভর্তি রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক অভিমত হলো—একদিন না একদিন এই দুই গ্যাসের রাসায়নিক মিলনে অবশ্যই পানির অণু তৈরি হবে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় কিছু কিছু নল থেকে বর্তমানে প্রতিদিন দু-এক ফোঁটা করে জল চুইয়ে পড়ছে। নাগরিকদের সনির্বন্ধ অনুরোধ করা হয়েছে যে, তারা যেন সার্বক্ষণিক নিজ নিজ কলসি সেই নলের নিচে পেতে রাখেন, যাতে কাঙ্ক্ষিত সেই এক ফোঁটা জলের জন্য কারও হৃদয়ে আক্ষেপ রয়ে না যায়। মিউনিসিপ্যাল কমিটির এমন অভাবনীয় ও জাদুকরী ব্যবস্থাপনায় শহরের মানুষ আজ পরম সুখে দিনাতিপাত করছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিভ্রমণ
যেসব পর্যটক লাহোর নামক এই রহস্যময় নগরী ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এখানকার বিচিত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কে কয়েকটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় দিক মনে রাখা বাঞ্ছনীয়। এই জ্ঞান অর্জিত হলে লাহোর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেবল আনন্দদায়কই হবে না, বরং তা হবে ঐতিহাসিকভাবে ফলপ্রসূ।
লাহোরের জনাকীর্ণ বাজারের বুক চিরে যে আঁকাবাঁকা ও সর্পিল রাস্তাটি চলে গেছে, প্রত্নতাত্ত্বিক বিচারে তার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি সেই কালজয়ী মহাসড়ক, যা একদা সম্রাট শেরশাহ সুরি নির্মাণ করেছিলেন। শহরবাসী ও প্রশাসন একে নিছক রাস্তা হিসেবে নয়, বরং একটি সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে পরম শ্রদ্ধা ও ভক্তির চোখে দেখে থাকে। আর এই প্রগাঢ় শ্রদ্ধাবোধ থেকেই রাস্তার আদি ও অকৃত্রিম রূপে কোনো প্রকার পরিবর্তন আনাকে প্রায় ধর্মদ্রোহিতার শামিল মনে করা হয়। ফলে সেই প্রাচীন ও ঐতিহাসিক গর্ত এবং গভীর নালাগুলো আজও ঠিক একই অবস্থায় সগৌরবে টিকে আছে, যা অতীতে বহু সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ঘটিয়েছিল। আজও এই রাস্তায় চলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অনেক আরোহীর ‘তক্তা’ (বাহন) উল্টে যায়, যা মূলত বিগত
