আবহাওয়া নিয়ে জনমনে নানাবিধ জনশ্রুতি ও গুজব ডালপালা মেলে আছে, যার প্রায় সবটুকুই ভিত্তিহীন ও অলীক। বাস্তবতা হলো, লাহোরবাসী দীর্ঘকাল যাবৎ এই আরজি জানিয়ে আসছিলেন যে, পৃথিবীর অন্যান্য সভ্য শহরের মতো তাদেরও যেন একটি নিজস্ব আবহাওয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, বর্তমান প্রগতি ও উন্নয়নের যুগে যখন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত স্বাধিকার ও স্বায়ত্তশাসন লাভ করছে এবং মানুষের ভেতর নাগরিক চেতনার নবজাগরণ ঘটছে, তখন লাহোরবাসীর এই দাবি মোটেই অযৌক্তিক নয়; বরং তা অত্যন্ত সহানুভূতিশীল বিবেচনার দাবি রাখে।
তবে বিধি বাম! কমিটির কাছে পর্যাপ্ত বায়ুর মজুদ ছিল না। ফলে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে নির্দেশ দেওয়া হলো যে, বৃহত্তর জাতীয় ও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে শহরবাসী যেন বাতাসের অপব্যবহার না করে; বরং এক্ষেত্রে চূড়ান্ত মিতব্যয়িতার পরিচয় দেয়। সেই নির্দেশিকা মোতাবেক এখন লাহোরে সাধারণ শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজনে নির্মল বাতাসের পরিবর্তে ‘ধূলিকণা’ এবং বিশেষ বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে ‘ধোঁয়া’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কমিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ধোঁয়া ও ধূলিকণা সরবরাহের জন্য বিশেষ বিপণি ও কেন্দ্র খুলে দিয়েছে। জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্প থেকে এই যৌগগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কমিটির দৃঢ় বিশ্বাস, অদূর ভবিষ্যতে এই অভিনব উদ্যোগ থেকে অত্যন্ত চমকপ্রদ ও সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া যাবে।
জল সরবরাহ ব্যবস্থা
শহরে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে কমিটির বিবেচনাধীন টেবিলে পড়ে আছে। বলা হয়, এই পরিকল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল সম্রাট হুমায়ূনের প্রাণদাতা এবং একসময়ের ক্ষণজন্মা শাসক নিজাম সাক্কার (Nizam Saqqa) আমল থেকে। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, নিজাম সাক্কার নিজ হাতে লিখিত সেই ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ কালের করাল গ্রাসে নষ্ট হয়ে গেছে। আর যেটুকু টিকে আছে, তার পাঠোদ্ধার করা বর্তমান বিশেষজ্ঞদের জন্য এক হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গবেষণালব্ধ পাণ্ডুলিপি মন্থন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়তো আরও কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।
ততদিন পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বৃষ্টির পানিকে কোনোভাবেই শহরের বাইরে অপচয় হতে দেওয়া হবে না। এই মহৎ উদ্দেশ্যে কমিটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই লাহোরের প্রতিটি মহল্লায় নিজস্ব
