এক কাজে পরিণত হয়েছে।
লাহোরে আগমনের পথ
ঐতিহাসিকভাবে লাহোরে পৌঁছানোর বহু পথ থাকলেও প্রধানত দুটি পথই সর্বাধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এর একটি সীমান্তপ্রদেশ পেশাওয়ার থেকে ধেয়ে আসে এবং অন্যটি প্রাচীন দিল্লি থেকে। মধ্য এশিয়া থেকে আগত দুঃসাহসী আক্রমণকারীরা সর্বদা পেশাওয়ারের সেই দুর্গম পথটিই বেছে নিত। অন্যদিকে, দিল্লির দিক থেকে আসত ইউপি বা যুক্তপ্রদেশের সেই সব অভিযাত্রী, যারা রণহুঙ্কারের চেয়ে বাকচাতুর্যেই বেশি পটু ছিল।
পেশাওয়ারের পথ ধরে আগত সেই যোদ্ধারা ইতিহাসে ‘আহলে সায়ফ’ বা তরবারিধারী দল হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের নামের সাথে সাধারণত ‘গজনভি’ কিংবা ‘ঘুরি’র মতো শৌর্যবীর্যপূর্ণ উপাধি যুক্ত থাকত। বিপরীতপক্ষে, দিল্লির দিক থেকে আগত দলটি ‘আহলে জুবান’ বা সুবক্তা ও বাকপটু দল হিসেবে সমধিক পরিচিত। তলোয়ারের ধার না থাকলেও তাদের রসনা ও ভাষার ধার ছিল অতুলনীয়। নিজেদের নামের সাথে বাহারি উপাধি অলঙ্করণে তারাও বিশেষ পারদর্শিতা ও রুচির পরিচয় দিত, যা লাহোরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আজও প্রভাবিত করে চলেছে
চতুঃসীমা
ঐতিহাসিকদের মতে, এককালে লাহোর শহরটিও একটি নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগের শিক্ষার্থীদের ভৌগোলিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে এবং তাদের জ্ঞানার্জনের সুবিধার্থে পৌরসভা সেই প্রাচীন সীমানাটি সহৃদয় বাতিল করে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এখন লাহোরের চারদিকে কেবল লাহোরই বিরাজমান; এর কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। শহরটি প্রতিদিন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চারদিকে নিজের ডালপালা বিস্তার করছে এবং জ্যামিতিক হারে এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভৌগোলিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত এবং বর্তমান বিস্তৃতির গতিধারা বিশ্লেষণ করলে অনুমান করা যায় যে, আগামী দশ-বিশ বছরের মধ্যে লাহোর নিজেই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রদেশের মর্যাদা লাভ করবে। তখন পরিস্থিতির এমন আমূল পরিবর্তন ঘটবে যে, খোদ ‘পাঞ্জাব’ হবে লাহোর নামক সেই বিশাল প্রদেশের রাজধানী। বিষয়টি সহজভাবে বুঝতে হলে লাহোরকে একটি মানবদেহের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এই দেহের প্রতিটি অঙ্গে এখন টিউমারের মতো অবাধ্য স্ফীতি দেখা দিচ্ছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, এই স্ফীতি কোনো সুস্থ পেশি বা পুষ্টির ফল নয়, বরং এটি বিষাক্ত ও দূষিত পদার্থে পরিপূর্ণ। সহজ কথায়, এটি এক প্রকার জটিল ব্যাধি, যা শহরটির মূল কাঠামোকে ভেতর থেকে আক্রান্ত করেছে এবং এর স্বাভাবিক ভারসাম্যকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
আবহাওয়া ও জলবায়ু
লাহোরের
