মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

এরপর তো মহাশয় এমন মুশায়েরা (কাব্য জলসা) জমে উঠল যে কী বলব!

 

কমবখত কেউ কেউ তো দু-গজলি, তিন-গজলি লিখে এনেছিল। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে একের পর এক কাসীদাহ পড়ে ফেলল। এমন এক হট্টগোল শুরু হলো যে, তা আর থামেই না। আমরা জানালা দিয়ে হাজার বার ‘অর্ডার, অর্ডার’ বলে চিৎকার করলাম, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সভাপতির কথা কেউ শোনে না। এখন এদের কেউ জিজ্ঞেস করুক যে, মিয়া, যদি তোমাদের এতই জরুরি মুশায়েরা করার ছিল, তবে নদীর ধারে খোলা হাওয়ায় গিয়ে কাব্যচর্চা করতে! এই ঘরবাড়ির মাঝে এসে ঘুমন্ত মানুষকে কষ্ট দেওয়া কেমন ধরনের ভদ্রতা?

 

আর আমাদের দেশি কুকুরগুলোও কেমন যেন বেয়াদব প্রকৃতির। এদের মধ্যে অনেকেই এত বেশি জাতিপ্রেমিক যে, প্যান্ট-কোট দেখলেই ঘেউ ঘেউ করতে শুরু করে। যাক, এটা যদিও এক অর্থে প্রশংসারও যোগ্য। এই প্রসঙ্গে না-ই বা গেলাম। এছাড়াও আরও একটি কথা আছে—আমরা বহুবার ডালা নিয়ে সাহেবদের বাংলোগুলিতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি; খোদার কসম, তাদের কুকুরদের মধ্যে এমন শিষ্টাচার দেখেছি যে আমরা মুগ্ধ হয়ে ফিরে এসেছি।

 

আমরা বাংলোর ভেতরে ঢুকতেই কুকুরটি বারান্দায় দাঁড়িয়েই একটি হালকা ঘেউ করে মুখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে গেল। আমরা এগিয়ে যেতেই সেও চার কদম এগিয়ে গিয়ে একটি কোমল ও পবিত্র স্বরে আবার ‘ঘেউ’ করে উঠল। চৌকিদারিও হলো, আবার সংগীতও হলো। আর আমাদের কুকুরেরা? না রাগ, না সুর, না তাল, না পা। কেবল একটানা চিৎকার করে যায়। বেতালারা কোথাকার! না পরিস্থিতি দেখে, না সময় বোঝে। শুধু গলাবাজিই করে যায়। গর্ব এই নিয়ে যে, তানসেন তো এই দেশেই জন্মেছিলেন।

 

এতে সন্দেহ নেই যে, কুকুরদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বরাবরই একটু তিক্ত থেকেছে, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আমরা কখনো সত্যাগ্রহ থেকে মুখ ফিরিয়েছি কিনা, তার কসম নিতে পারেন। হয়তো আপনারা এটিকে আত্ম-প্রশংসা মনে করবেন, কিন্তু খোদা সাক্ষী, আজ পর্যন্ত কখনও কোনো কুকুরের ওপর হাত ওঠাতে পারিনি। অনেক বন্ধু পরামর্শ দিয়েছেন যে, রাতে হাতে লাঠি-ছড়ি রাখা উচিত, যা বিপদনাশক। কিন্তু আমরা কারও সঙ্গে অকারণে শত্রুতা তৈরি করতে চাই না।

 

কুকুর ঘেউ ঘেউ শুরু করলেই আমাদের জন্মগত ভদ্রতা আমাদের ওপর এমনভাবে প্রবল হয়ে ওঠে যে, আপনারা যদি সে সময় আমাদের দেখেন, তবে নিশ্চিতভাবে এটাই

« <
/ 22
> »