মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

করে কিছু বলছিল। আমি মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাঁপছিলাম। ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ একজন বৃষ্টির প্রথম ফোঁটার মতো সাহস করে আমার দিকে সিগারেটের একটি খালি প্যাকেট ছুড়ে মারল। এরপর চার-পাঁচটি কাগজের গুলি আমার আশেপাশে মঞ্চের ওপর এসে পড়ল। কিন্তু আমি আমার বক্তৃতার ধারা অব্যাহত রাখলাম:

 

সম্মানিত শ্রোতাবৃন্দ! তোমরা মনে রেখো। তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

“তোমরা দুটি বলদ…”

 

কিন্তু যখন এই বর্ষণ বাড়তেই থাকল, তখন আমি এই অসংযত জনতা থেকে সরে যাওয়াই উপযুক্ত মনে করলাম। মঞ্চ থেকে লাফ দিলাম এবং এক লাফে দরজার দিকে ছুটলাম। ভিড়ও আমার পিছু নিল। আমি পেছন ফিরে তাকালাম না, বরং সোজা ছুটতে থাকলাম। সময়ে সময়ে কিছু অনুচিত শব্দ আমার কানে আসছিল। সেগুলো শুনে আমি আমার গতি আরও বাড়িয়ে দিলাম এবং সোজা স্টেশনের দিকে গেলাম। একটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি বেপরোয়াভাবে তাতে ঢুকে পড়লাম। এক মুহূর্ত পর সেই ট্রেনটি সেখান থেকে চলতে শুরু করল।

 

সেই দিনের পর থেকে আজ পর্যন্ত মুরিদপুর আর আমাকে আমন্ত্রণ জানায়নি, আর আমারও সেখানে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা জন্মায়নি।

 

কুকুরেরা

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, পশুর ডাক্তারদের কাছে জিজ্ঞেস করেছি, নিজেরাও মাথা খাটিয়েছি, কিন্তু কখনও বুঝতে পারিনি যে, শেষমেশ কুকুরদের উপযোগিতাটা কী? গরুকে ধরুন, দুধ দেয়; ছাগলকে ধরুন, দুধ দেয় এবং তার সাথে নাদিও দেয়। এই কুকুরেরা কী করে? তারা বলে, “কুকুর একটি প্রভুভক্ত প্রাণী।” এখন মশাই, বিশ্বস্ততা যদি এরই নাম হয় যে সন্ধ্যা সাতটা থেকে ঘেউ ঘেউ শুরু করে একটানা দম না নিয়ে সকাল ছ’টা পর্যন্ত চিৎকার করে গেল, তবে আমরা লেজকাটা হয়েই ভালো আছি।

 

গতকালেরই কথা। রাত তখন এগারোটা হবে, একটি কুকুরের মনে কাব্যভাবনা উথলে উঠল, অমনি সে বাইরে রাস্তায় এসে একটি ‘তারহ’-এর মিসরা (গজলের প্রথম লাইন) দিয়ে বসল। এক-আধ মিনিটের মধ্যেই সামনের বাংলোর একটি কুকুর ‘মতলা’ (গজলের প্রথম দুটি লাইন) পেশ করল। এখন জনাব, এক পোড় খাওয়া ওস্তাদ কুকুর এতে রেগে গিয়ে এক হালুয়াইয়ের চুল্লির মধ্য থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এল এবং প্রচণ্ড রোষের সাথে শেষ চরণ (মকতা) পর্যন্ত পুরো গজলটি বলে গেল। এর ওপর উত্তর-পূর্ব দিক থেকে একজন গুণমুগ্ধ কুকুর জোর আওয়াজে ‘দাদ’ (প্রশংসাসূচক চিৎকার) দিল। ব্যস,

« <
/ 22
> »