এবং সেটা একটি কাগজে টুকে নিলাম, যাতে সভার সময় তা আমার সামনে রাখতে পারি। সেই খসড়াটি ছিল নিম্নরূপ:
(১) ভূমিকা: হালীর কবিতা। (উচ্চস্বরে এবং বেদনাদায়ক কণ্ঠে পড়ো।)
(২) ভারতের বর্তমান অবস্থা।
(ক) দারিদ্র্য
(খ) ঘৃণা
(গ) জাতীয় নেতাদের স্বার্থপরতা
(৩) এর কারণ
বিদেশী শাসন কি? না।
আবহাওয়া কি? না।
পশ্চিমা সভ্যতা কি? না।
তাহলে কী? (বিরতি, যার মধ্যে হাসিমুখে সভার সমস্ত উপস্থিতিদের ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নাও।)
(৪) এরপর বলো যে, কারণ হলো হিন্দু ও মুসলমানদের বিভেদ। (স্লোগানের জন্য বিরতি।) এর একটি চিত্র আঁকো। দাঙ্গা-হাঙ্গামার কথা করুণ কণ্ঠে বলো।
(এরপর হয়তো আরও কিছু স্লোগান উঠবে। সেগুলোর জন্য একটু থেমে যাও।)
(৫) সমাপ্তি। সাধারণ উপদেশাবলী। বিশেষ করে ঐক্যের শিক্ষা (কবিতা)।
(এরপর বিনয়ের ভঙ্গিতে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসে যাও এবং লোকেদের প্রশংসার জবাবে প্রতি মুহূর্তে উপস্থিতিদের সালাম জানাতে থাকো।)
খসড়াটি প্রস্তুত করার পর সভার দিন পর্যন্ত আমি প্রতিদিন সেটির ওপর চোখ বুলাতে থাকি এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই যুদ্ধজয়ী বাক্যগুলো অনুশীলন করতে থাকি। বিশেষ করে ৩ নং পয়েন্টের পরের হাসির ভঙ্গিটি খুব করে অভ্যাস করলাম। দাঁড়িয়ে ডান থেকে বামে এবং বাম থেকে ডানে ঘোরার অভ্যাস করলাম, যাতে বক্তৃতার সময় আমার কণ্ঠস্বর সবার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং সবাই শান্তিতে প্রতিটি শব্দ শুনতে পায়।
মুরিদপুর পর্যন্ত যাত্রা ছিল আট ঘণ্টার। মাঝখানে সাঙ্গা স্টেশনে ট্রেন বদল করতে হতো। আঞ্জুমানে নওজোয়ানে হিন্দ-এর কিছু উৎসাহী সদস্য সেখানে আমাকে অভ্যর্থনা জানাতে এসেছিলেন। তারা আমাকে মালা পরিয়ে দিলেন এবং কিছু ফলমূল খেতে দিলেন। সাঙ্গা থেকে মুরিদপুর পর্যন্ত আমি তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম। ট্রেন যখন মুরিদপুর পৌঁছাল, তখন স্টেশনের বাইরে কমপক্ষে তিন হাজার মানুষের ভিড়। তারা অবিরাম স্লোগান দিচ্ছিল। আমার সঙ্গে থাকা ভলান্টিয়াররা বললেন, “স্যার, মাথা বাইরে বের করুন। মানুষ দেখতে চাইছে।” আমি আদেশ পালন করলাম। গলায় মালা ঝোলানো, হাতে একটি কমলা। আমাকে দেখেই লোকে আরও বেশি উদ্দীপনার সঙ্গে স্লোগান দিতে শুরু করল। বহু কষ্টে বাইরে এলাম। আমাকে মোটর গাড়িতে তোলা হলো এবং মিছিল সভাঘরের দিকে রওনা হলো।
সভাঘরে প্রবেশ করার সময় ভিড় পাঁচ-ছয়
