মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

হাজারে পৌঁছে গেছে। তারা একযোগে আমার নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিল। ডানে-বামে লাল লাল ঝাণ্ডাগুলোতে আমার মতো সামান্য মানুষের প্রশংসায় কিছু কথা লেখা ছিল। যেমন—”ভারতের মুক্তি তোমাতেই”, “মুরিদপুরের সন্তানকে স্বাগতম”, “ভারতের এই মুহূর্তে কাজ প্রয়োজন”।

 

আমাকে মঞ্চে বসানো হলো। সভার সভাপতি সবার সামনে আমার সঙ্গে পুনরায় হাত মেলালেন এবং আমার হাতে চুম্বন করলেন। এরপর তিনি তার পরিচিতিমূলক বক্তৃতা এইভাবে শুরু করলেন:

 

হযরাত! ভারতের যে নামী এবং উচ্চস্তরের নেতাকে আজকের সভায় বক্তৃতা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে…।

 

সংকট

 

‘বক্তৃতা’ শব্দটি শুনেই আমি আমার বক্তৃতার ভূমিকা বাক্যগুলো মনে করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তখন আমার মন এতগুলো ভিন্ন ভাবনার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল যে নোট দেখার প্রয়োজন পড়ল। পকেটে হাত দিলাম, নোট নেই! হাত-পায়ে হঠাৎ এক হালকা ঠান্ডা স্রোত অনুভব করলাম। মনকে সাহস দিলাম যে, স্থির হও, আরও কয়েকটি পকেট আছে। ঘাবড়িয়ো না। কাঁপতে কাঁপতে সব পকেট দেখলাম, কিন্তু সেই কাগজ কোথাও নেই। পুরো হল চোখের সামনে চক্কর খেতে শুরু করল। হৃদপিণ্ড জোরে জোরে ধড়ফড় করতে লাগল। ঠোঁট শুকিয়ে গেল মনে হলো। দশ-বারো বার পকেটগুলো হাতড়ে দেখলাম, কিন্তু কিছুই হাতে এল না। ইচ্ছে হলো জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করি। অসহায়ত্বের মধ্যে ঠোঁট কামড়াতে লাগলাম। সভাপতি সাহেব তার বক্তৃতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন:

 

‘…মুরিদপুর শহর তাদের নিয়ে যত গর্বই করুক না কেন, তা কম হবে। প্রতিটি শতকে এবং প্রতিটি দেশে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন মানুষ এমন জন্মগ্রহণ করেন, যাদের সত্তা মানবজাতির জন্য…’

 

হে খোদা! এখন আমি কী করব? একদিকে ভারতের অবস্থার চিত্র আঁকতে হবে। না, তার আগে জানাতে হবে যে, আমরা কত অযোগ্য। ‘অযোগ্য’ শব্দটি তো বেমানান হবে। ‘মূর্খ’ বলা উচিত। না, এটাও ঠিক না, ‘অসভ্য’।

 

“…তাদের উচ্চ রাজনীতি জ্ঞান, তাদের জাতীয় আবেগ এবং আন্তরিক সহানুভূতির কথা কার না জানা! এসব বিষয় তো আপনারা জানেনই, কিন্তু বক্তৃতা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে মুন্সিয়ানা তিনি অর্জন করেছেন…”

 

হ্যাঁ, সেই বক্তৃতা কোথা থেকে শুরু হয়? হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ওপর বক্তৃতা… কিছু উপদেশ অবশ্যই দিতে হবে, কিন্তু সেটা তো শেষে। মাঝখানে সেই হাসির ভঙ্গিটা কোথায় ছিল?

 

“…আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি, তিনি আপনাদের হৃদয় নাড়িয়ে দেবেন

« <
/ 22
> »