মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

রজ্জুকে শক্ত করে ধরেছে, তারা আজ সভ্যতার মধ্যগগনে । যারা বিভেদ ও অনৈক্যের দিকে ফিরেছে, ইতিহাস তাদের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ইত্যাদি, ইত্যাদি।’

 

ছেলেবেলার কোনো পাঠ্যপুস্তকে ‘শুনেছি যে দুটি বলদ থাকত এক জায়গায়’—এই ঘটনাটি পড়েছিলাম। সেটা বের করে নতুন করে পড়লাম এবং তার সমস্ত খুঁটিনাটি টুকে নিলাম। তারপর মনে পড়ল যে, আরও একটি গল্প পড়েছিলাম, যেখানে এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তার সব ছেলেকে ডেকে লাঠির একটি আঁটি তাদের সামনে রেখে দেয় এবং তাদের বলে যে, এই আঁটিটা ভাঙো। তারা ভাঙতে পারল না। তারপর সেই আঁটি খুলে একটি একটি লাঠি তাদের সবার হাতে দিয়ে দেয়, যা তারা সহজেই ভেঙে ফেলে। এভাবে সে তার সন্তানদের মনে ঐক্যের শিক্ষা গেঁথে দেয়। এই গল্পটিও লিখে নিলাম। বক্তৃতার শুরুটা ভাবলাম। এমন একটি ভূমিকা উপযুক্ত মনে হলো:

 

‘প্রিয় দেশবাসী! 

দুর্ভাগ্যের মেঘ মাথায় ছেয়ে আসছে,

দারিদ্র্য তার চেহারা দেখাচ্ছে।

অশুভ ছায়া সামনে-পিছে ঘুরছে,

চারদিক থেকে এই ডাক আসছে,

যে গতকাল কী ছিলে আর আজ কী হয়ে গেলে তোমরা,

এইমাত্র জেগে ছিলে, এখন ঘুমিয়ে পড়লে কেন?’

 

ভারতের যে মায়াবী কবি অর্থাৎ মাওলানা আলতাফ হুসাইন হালী পানিপথী বহু বছর আগে এই কবিতাগুলো লিখেছিলেন, তিনি কী জানতেন যে, দিন যত যাবে, তার এই করুণ শব্দগুলো ততই সত্য প্রমাণিত হবে! আজ ভারতের এই অবস্থা… ইত্যাদি, ইত্যাদি।

 

এরপর ভাবলাম যে, ভারতের অবস্থার একটি বেদনাদায়ক চিত্র আঁকব। দারিদ্র্য, অভাব, ঘৃণা ইত্যাদির দিকে ইঙ্গিত করব এবং তারপর জিজ্ঞাসা করব যে, এর কারণ কী? সেই সমস্ত কারণগুলো পুনরাবৃত্তি করব, যা লোকে সাধারণত বলে থাকে। যেমন: বিদেশী শাসন, আবহাওয়া, পশ্চিমা সভ্যতা, কিন্তু একে একে সবগুলোকে ভুল প্রমাণ করব এবং তারপর আসল কারণ বলব—যে আসল কারণটি হলো হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যেকার বিভেদ। সবশেষে ঐক্যের উপদেশ দেব এবং এই শ্লোকটি দিয়ে বক্তৃতা শেষ করব:

 

‘আ আন্দলীব মিল কে করেঁ আহ ও জারিয়াঁ

তু হায়ে গুল পুকার ম্যায় চিল্লাউঁ হায়ে দিল’

(এসো বুলবুল, একসঙ্গে করি রোনাজারি,

তুমি ফুলের জন্য হায় বলো, আমি হৃদয়ের জন্য হায় বলে চিৎকার করি।)

 

দশ-বারো দিন ভালোভাবে চিন্তা করার পর আমি এই বক্তৃতার একটি খসড়া তৈরি করে নিলাম

« <
/ 22
> »