মুরিদপুরের পীর

« <
/ 22
> »

থেকে জানা যায় যে, ভাগ্নে সাহেব আমার প্রতিটি চিঠিকে অত্যন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে খুলত; বরং কিছু কিছু ব্যাপার থেকে বোঝা যায় যে, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সে নাকি রীতিমতো ওজুও করে নিত। চিঠিটা নিজে পড়ত, তারপর বন্ধুদের শোনাত, তারপর খবরের কাগজের এজেন্টের দোকানে স্থানীয় লাল বুখখড়দের (স্থানীয় পণ্ডিত/জ্ঞান জাহিরকারী) আড্ডায় গিয়ে তা আরও ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বারবার বলত। এরপর স্থানীয় পত্রিকার অত্যন্ত স্থানীয় সম্পাদককে দিত, যিনি সেটা খুব যত্ন সহকারে ছেপে দিতেন। সেই পত্রিকাটির নাম ছিল ‘মুরিদপুর গেজেট’। এর সম্পূর্ণ ফাইল কারও কাছে নেই। দু’মাস চলার পর কিছু আর্থিক সমস্যার কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়।

 

সম্পাদকের বর্ণনা ছিল নিম্নরূপ: গায়ের রং গমের মতো, কথাবার্তা দার্শনিকসুলভ, চেহারা দেখে চোর বলে মনে হয়। যদি কোনো ভদ্রলোক তার ঠিকানা জানেন, তবে যেন মুরিদপুরের খেলাফত কমিটিকে জানান এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানপ্রাপ্ত হন। আর কেউ যেন তাকে ভুল করেও কোনো চাঁদা না দেন, অন্যথায় খেলাফত কমিটি দায়ী থাকবে না।

 

এও শোনা গিয়েছিল যে, এই পত্রিকাটি আমার লেখা এই চিঠিগুলোর জোরে তাদের একটি কংগ্রেস সংখ্যা-ও প্রকাশ করে ফেলেছিল। সেটি এত বিপুল পরিমাণে ছাপা হয়েছিল যে, তার পাতাগুলো এখনও কিছু মুদি দোকানে দেখা যায়। যাহোক, মুরিদপুরের প্রতিটি শিশু আমার দক্ষতা, রচনাশৈলী, সুস্থ মস্তিষ্ক ও জাতীয় আবেগের প্রশংসা করল। আমার অনুমতি ও অজান্তেই আমাকে মুরিদপুরের জাতীয় নেতা ঘোষণা করা হলো। দু’জন কবি আমার নামে কবিতাও লিখলেন, যা সময়ে সময়ে ‘মুরিদপুর গেজেট’-এ ছাপা হতে থাকল।

 

আমার এই সম্মান বৃদ্ধি সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ বেখবর ছিলাম। সত্যি, আল্লাহ যাকে চান তাকেই সম্মান দান করেন। আমি কী জানতাম যে, শুধুমাত্র আমার ভাগ্নেকে কয়েকটি চিঠি লিখে আমি আমার দেশবাসীর হৃদয়ে এতটা জায়গা করে নিয়েছি, আর কে-ই বা জানত যে, এই সাধারণ মানুষটি, যে প্রতিদিন চুপচাপ মাথা নিচু করে বাজার দিয়ে চলে যায়, সে মুরিদপুরে পূজিত হচ্ছে। সেই চিঠিগুলো লেখার পর কংগ্রেস এবং তার সমস্ত সংশ্লিষ্টতা আমি সম্পূর্ণ ভুলে গিয়েছিলাম। ‘মুরিদপুর গেজেট’-এর গ্রাহক আমি ছিলাম না। আমার বড়ত্বের ভয়ে ভাগ্নে কখনও এতটুকুও লিখে পাঠায়নি যে, আপনি নেতা হয়ে গেছেন। আমি জানি, সে যদি এভাবে বলতও, তবে বহু বছর পর্যন্ত আমি তার কথা

« <
/ 22
> »