থামিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ‘ছিদ্র’ বা অঙ্গের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন।
উমর (রা.)-এর ভীতি ও সমাধান
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে ভীত হয়ে বললেন— ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি!’ রাসূল (সা.) কারণ জানতে চাইলে উমর (রা.) রূপক অর্থে বললেন— ‘গত রাতে আমি আমার সওয়ারি উল্টে দিয়েছি!’ তিনি মূলত পেছন দিক থেকে স্ত্রীর যোনিপথে মিলন করেছিলেন, যা তাঁর কাছে ব্যতিক্রম মনে হওয়ায় তিনি শঙ্কিত হয়েছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করে স্পষ্ট করে দিলেন যে— সামনে থেকে হোক বা পেছন থেকে হোক, যতক্ষণ তা ‘শস্যক্ষেত্রে’ অর্থাৎ যোনিপথে সম্পন্ন হয় ততক্ষণ তা বৈধ। তবে মলদ্বার এবং ঋতুস্রাবের সময় মিলন থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। [সুনানুন নাসাঈ ও তিরমিযী; হাদীসটি হাসান]
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর বিশ্লেষণ ও কুসংস্কার বর্জন
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) তাঁর ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থে লিখেছেন যে, মলদ্বারে মিলন কোনো নবীর শরীয়তেই কখনো হালাল ছিল না। তিনি এর নিষেধাজ্ঞার পেছনে অকাট্য যুক্তি তুলে ধরেছেন:
১. আল্লাহ কেবল ‘শস্যক্ষেত্রে’ মিলনের অনুমতি দিয়েছেন; ‘আবর্জনা ক্ষেত্রে’ (মলদ্বার) নয়।
২. চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে এটি পুরুষের জীবনীশক্তি শোষণের পরিবর্তে কেবল কষ্ট ও অবসাদ তৈরি করে এবং মানুষের রুচিবোধকে কলুষিত করে।
৩. এটি লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের মতো জঘন্য পাপাচারের নিকটবর্তী করে দেয়।
তৌরাত ও তালমুদে ইহুদীদের একটি বিকৃত ধারণা ছিল যে, স্ত্রী হলো এক টুকরো গোশতের মতো যা যেভাবে ইচ্ছা খাওয়া যায়। ইসলাম এই পৈশাচিক ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সাঈদ বিন ইয়াসার যখন ইবনে উমর (রা.)-কে ‘তাহমীয’ (মলদ্বারে মিলন) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তিনি ঘৃণাভরে বলেছিলেন— “ছি ছি! কোনো মুসলিম কি এমনটি করতে পারে?!!” শেখ আলবানী (রহ.) তাঁর ‘আদাবুয যিফাফ’ গ্রন্থে ইবনে উমর (রা.)-এর এই ঘৃণাকেই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বিপক্ষীয় বর্ণনাগুলোকে ভিত্তিহীন বলেছেন।
সতর্কবার্তা: যে ব্যক্তি ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মিলন করল অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে মিলন করল কিংবা কোনো গণকের কাছে গিয়ে তার কথা বিশ্বাস করল—সে মূলত মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে (কুরআন), তা অস্বীকার করল। [সুনান আবী দাউদ; সহীহ] শিয়া বা অন্যান্য ভ্রান্ত ফেরকার অপব্যাখ্যায় ধোঁকা খাওয়া যাবে না। মলদ্বারে মিলন স্ত্রীকে ব্যভিচারের দিকে ঠেলে দেওয়ার নামান্তর, কারণ এতে তার প্রকৃত যৌন
