প্রভাব
এই সওয়াব অর্জনের মূল শর্ত হলো—স্বামী-স্ত্রী উভয়কে এর মাধ্যমে চারিত্রিক পবিত্রতা ও পাপ থেকে বাঁচার নিয়ত করতে হবে। ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থের লেখক এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: “এই হাদীসটি প্রমাণ করে যে, ইখলাস বা নিষ্ঠার জন্য এটি শর্ত নয় যে কাজের পেছনে কোনো জৈবিক চাহিদা থাকতে পারবে না। বরং শর্ত হলো একটিই—নিজের স্বাদ ও চাহিদাকে নেক নিয়তের অনুগামী করা এবং সামগ্রিক উদ্দেশ্যটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করা।” [আল-মাদখাল ৩/১৭৪]
বিকৃত ধর্মতত্ত্ব বনাম ইসলামের সুমহান দর্শন
ইসলামের এই যুক্তিনির্ভর দর্শনের বিপরীতে কিছু বিকৃত ধর্ম যৌনতাকে পাপ, অপবিত্রতা এমনকি শয়তানি কাজ হিসেবে গণ্য করে। এর ফলে তারা হয় একে সম্পূর্ণ বর্জন করার অযৌক্তিক নির্দেশ দেয় (যা মানুষের ফিতরাত বা প্রকৃতির বিরোধী এবং যার ফলে অবদমন ও বিকৃতি জন্ম নেয়), নতুবা হারামের সাগরে হাবুডুবু খায়—যেমনটি বর্তমান পাশ্চাত্য সমাজে দেখা যাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাস মতে নারী হলো সকল মন্দের উৎস। তারা মনে করে, হাওয়া (আ.) শয়তানের প্ররোচনায় আদম (আ.)-কে নিষিদ্ধ ফল খেতে প্রলুব্ধ করেছিলেন, যার ফলে সেই ‘আদি পাপ’ (Original Sin) তাঁর বংশধর সকল নারীর ওপর বর্তেছে। অথচ কুরআন মাজীদ ঘোষণা করেছে যে, শয়তান আদম ও হাওয়া উভয়কেই প্ররোচনা দিয়েছিল এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁদের উভয়ের তওবা কবুল করে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ইসলামে এক জনের পাপ অন্য জনের ওপর বর্তায় না!
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক বিশ্লেষণ
ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) ‘রওজাতুল মুহিব্বীন’ গ্রন্থে বলেন: নবী (সা.) এই চিকিৎসার (দাম্পত্য মিলন) প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং এতে সওয়াবের ঘোষণা দিয়ে একে ‘সদকাহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন! এর মাধ্যমে পূর্ণ আনন্দ লাভের পাশাপাশি স্ত্রীর প্রতি ইহসান (দয়া) করা হয়, সওয়াব অর্জিত হয়, মন প্রফুল্ল হয়, মনের কুচিন্তা দূর হয় এবং আত্মা ও শরীর সতেজ ও হালকা হয়। আর যদি এই মিলনের সাথে জীবনসঙ্গিনীর সুন্দর চেহারা, নম্র স্বভাব, প্রগাঢ় ভালোবাসা এবং সওয়াবের নিয়ত যুক্ত হয়—তবে এটি এমন এক স্বাদ যার কোনো তুলনা নেই।
এর পূর্ণতা তখনই আসে যখন দেহের প্রতিটি অঙ্গ তার হিস্যা বুঝে পায়; চোখ পায় প্রিয়জনকে দেখার তৃপ্তি, কান পায় কথা শোনার আনন্দ, নাক পায় সুঘ্রাণ, মুখ পায় চুম্বন আর হাত পায় স্পর্শের সুখ।
