তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

যেন তার ‘নাসিয়াহ’ (মাথার সামনের অংশের চুল) ধরে মহান আল্লাহর নাম নেয় এবং বরকতের দু‘আ করে এই বলে—
‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খাইরিহা ওয়া খাইরি মা জাবালতাহা আলাইহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা জাবালতাহা আলাইহি’।” [সহীহ বুখারী, সুনান আবী দাউদ ও ইবনে মাজাহ]
এই দু‘আটির বঙ্গানুবাদ ও মর্মার্থ অত্যন্ত গভীর:
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তার কল্যাণ এবং আপনি তাকে যে স্বভাবজাত কল্যাণের ওপর সৃষ্টি করেছেন তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে তার অনিষ্ট এবং আপনি তাকে যে স্বভাবজাত মন্দের ওপর সৃষ্টি করেছেন তা থেকে পানাহ চাচ্ছি।”
এই আমলের মাধ্যমে স্বামী স্বীকার করে নেন যে, তাঁর স্ত্রীর মধ্যকার সমস্ত কল্যাণ ও সচ্চরিত্র আল্লাহর দান, আর মানুষের স্বভাবজাত যে ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে তা থেকে রক্ষার মালিকও একমাত্র আল্লাহ। এটি নবদম্পতির মাঝে পারস্পরিক আস্থা ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বৃদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম।
তাবীজ-কবজ ও শিরকের ভয়াবহতা
স্ত্রীর মাথায় হাত রেখে এই দু‘আ করার প্রসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীদের বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে—অসুস্থতা, নজর লাগা কিংবা বাসর রাতের মতো বিশেষ মুহূর্তে কেবল সুন্নাহসম্মত দু‘আ ও যিকিরই কার্যকর ও প্রকৃত উপকারী। যা বিভিন্ন সহীহ দু‘আ ও যিকিরের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
সাবধান! কোনো অবস্থাতেই তাবীজ-কবজ লিখে শরীরে ঝোলানো যাবে না। বর্তমান সমাজে একদল লোক অজ্ঞতাবশত বা ভণ্ডদের খপ্পরে পড়ে তাবীজকে বিপদ মুক্তির উপায় মনে করে, অথচ এতে বিন্দুমাত্র উপকার নেই, বরং এটি স্পষ্ট হারাম। অনেক তাবীজে তিলসম বা কুফরী কালাম এবং জ্বিন-পরীর সাহায্য নেওয়া হয় যা সরাসরি শিরকের অন্তর্ভুক্ত। এ সম্পর্কে নবী (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন:
“তাবীজ ঝোলানো শিরক।”
“যে ব্যক্তি তাবীজ ঝোলাল, আল্লাহ যেন তার আশা পূর্ণ না করেন!”
অতএব, মুসলিম পরিবারগুলোকে সচেতন হতে হবে। দাম্পত্য জীবনের সুখ কেবল আসমানী বরকতেই সম্ভব, কোনো ধাতব লকেট বা কাগজে লেখা অস্পষ্ট হরফে নয়। দ্বীন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং যাবতীয় বিদআত, কুসংস্কার ও ভণ্ডামি থেকে দূরে থাকতে হবে।
ভণ্ডামির নানারূপ: গুপ্তধন ও প্রতারণার জাল
কুসংস্কারের একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও আধুনিক শাখা হলো ঘরের ভেতর ‘গুপ্তধন’ বা ‘নিধি’ খোঁজা। এটি মূলত একদল ধড়িবাজ ও শয়তান প্রকৃতির মানুষের প্রতারণা মাত্র, যারা

« <
/ 351
> »