তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

স্ত্রীর করণীয় ও বুদ্ধিমত্তা
‘তুহফাতুল আরূস’ গ্রন্থের লেখক আরও বলেন: “বাসর রাতে স্ত্রীর উচিত স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে খুব বেশি অনীহা বা বাধা না দেওয়া। তবে হালকা একটু সোহাগি প্রতিরোধ করায় কোনো দোষ নেই যা স্বামীর আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়! কিন্তু যদি বাসর রাতে স্ত্রী খুব বেশি অনীহা দেখায়, তবে স্বামীর মানসিক উদ্যম ভেঙে যেতে পারে এবং তিনি মিলন করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন। এমনকি এই ব্যর্থতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই স্ত্রীদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত!”
ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘নাসরুদ দুরার’ ও ‘আল-আগানী’-তে এক খলীফার বাসর রাতের একটি চমৎকার বুদ্ধিমত্তার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। কনে যখন পালঙ্কে বসলেন, খলীফা বললেন: “হয় তুমি আমার কাছে এসো, নয়তো আমি তোমার কাছে আসি।” কনে বুদ্ধিমতী ছিলেন, তিনি উঠে খলীফার কাছে গিয়ে বসলেন। খলীফা নিজের মাথার টাক দেখিয়ে বললেন: “এটি দেখে ভয় পেয়ো না, এর পেছনে তোমার ভালো লাগার মতোই অনেক কিছু রয়েছে!” কনে চমৎকার উত্তর দিলেন: “আমাদের বংশের নারীরা টাকমাথা বয়স্ক স্বামীদেরই বেশি পছন্দ করে!” খলীফা মুগ্ধ হলেন। এরপর একে একে পোশাক খুলতে গিয়ে যখন শেষ কাপড়টি বাকি থাকল, কনে বললেন: “এটি খোলার দায়িত্ব আপনারই!” খলীফা তাঁর এই বুদ্ধিমত্তা ও রসবোধে দারুণ প্রীত হয়ে বাসর সম্পন্ন করলেন।
মিলনকালীন পোশাক ও কিছু ভ্রান্ত ধারণা
স্ত্রীর পোশাক খোলার প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী ম্যারি স্টোপস বলেছেন যে, পোশাক খোলার সময় পুরুষকেও মার্জিতভাবে একে একে নিজের পোশাক খুলে ফেলা উচিত। কারণ স্ত্রী পুরোপুরি নগ্ন আর স্বামী পুরোপুরি পোশাকে আবৃত—এটি হওয়া মোটেও কাম্য নয়। এতে স্ত্রী ভুল বার্তা পেতে পারেন এবং অস্বস্তিতে পড়তে পারেন।
অনেকে প্রশ্ন করেন—স্ত্রীকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করা কি সঠিক? সমাজে কিছু হাদীস প্রচলিত আছে যেমন: “মিলনের সময় স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকাবে না; কারণ এতে অন্ধত্ব জন্মায়।” ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.) তাঁর ‘আল-মাওযূ‘আত’ গ্রন্থে এই হাদীসটিকে ‘বানোয়াট’ বা জাল বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তিসঙ্গতভাবেও এটি অসার; কারণ মিলন যেখানে জায়েজ, সেখানে দেখা হারাম হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আয়েশা (রা.)-এর সহীহ হাদীসটি এর বড় প্রমাণ: “আমি এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। আমাদের হাতগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেত… আমরা উভয়েই তখন অপবিত্র ছিলাম।” [সহীহ বুখারী

« <
/ 351
> »