থাকে।” [সুনানুত তিরমিযী ও সুনানুন নাসাঈ; সহীহ]
সুগন্ধির শ্রেষ্ঠত্ব ও উপঢৌকন সম্পর্কে হাদীস শরীফে আরও এসেছে:
“কস্তুরী (মিসক) হলো সর্বোত্তম সুগন্ধি।” [সুনান আবী দাউদ; হাসান]
“যাকে সুগন্ধি ফুল (রিহান) উপহার দেওয়া হয় সে যেন তা ফিরিয়ে না দেয়; কারণ এর ঘ্রাণ অত্যন্ত চমৎকার এবং এটি বহন করাও খুব সহজ।” [সহীহ মুসলিম]
রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো সুগন্ধি উপহার হিসেবে পেলে তা ফিরিয়ে দিতেন না। [সহীহ বুখারী ও সুনানুন নাসাঈ]
পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির এই চর্চা কেবল শারীরিক প্রশান্তিই দেয় না, বরং এটি মুমিনের রুচিবোধ ও সুন্নাহর প্রতি অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ।
বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণ: সুন্নাহ ও মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা
দাম্পত্য জীবনের সূচনা হয় যে রাতটির মাধ্যমে, সেটি কেবল জৈবিক চাহিদার রাত নয়, বরং দুটি প্রাণের পারস্পরিক পরিচয়, বিশ্বাস এবং আমৃত্যু পথচলার এক দৃঢ় অঙ্গীকারের লগ্ন। এই প্রথম রাতের প্রতিটি পদক্ষেপ ও আচরণ পরবর্তী জীবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। তাই এ রাতে বরের আচরণ হতে হবে অত্যন্ত কোমল, ধৈর্যশীল এবং শিষ্টাচারপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ ও বাসর রাতের সরলতা
ইসলামী ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম বাসর যাপনের চিত্রটি আমরা পাই উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর জীবন থেকে। আসমা বিনতু ইয়াযিদ ইবনুস সাকান (রা.) সেই বরকতময় রাতের স্মৃতিচারণ করে বর্ণনা করেন:
“আমি আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিলাম। এরপর তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে নববধূর সাথে সাক্ষাতের জন্য আহ্বান করলাম। তিনি এসে আয়েশা (রা.)-এর পাশে বসলেন। তখন একটি বড় পাত্রে দুধ আনা হলো। তিনি তা থেকে কিছুটা পান করলেন, তারপর আয়েশা (রা.)-এর দিকে পাত্রটি বাড়িয়ে দিলেন। আয়েশা (রা.) লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলেন।”
আসমা (রা.) বলেন: “আমি তাঁকে মৃদু ধমক দিয়ে বললাম— ‘আল্লাহর নবীর হাত থেকে পাত্রটি গ্রহণ করো।’ তখন তিনি পাত্রটি নিলেন এবং সামান্য পান করলেন। এরপর নবী (সা.) তাঁকে বললেন: ‘তোমার সখীদেরও দাও’।” [মুসনাদ আহমাদ; হাদীসটি সহীহ]
এই হাদীসটি থেকে আমরা কয়েকটি অমূল্য শিক্ষা লাভ করি:
১. নববধূর সাজসজ্জা: আয়েশা (রা.)-কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছিল। নববধূর সাজসজ্জা এবং তাকে বরের সামনে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা আরবীয় ও ইসলামী সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২. অভিভাবকের ভূমিকা: বাসর ঘরে কনের মা, বড় বোন বা শাশুড়ি কিছু সময়ের জন্য উপস্থিত থাকা
