আসেন, যা স্বামীর মনে অনীহা ও বিতৃষ্ণা তৈরি করে।
‘ফয়জুল ক্বাদীর’ গ্রন্থে আল্লামা মুনাওয়ী (রহ.) উল্লেখ করেছেন—যদি সফরের খবর স্ত্রীকে আগেই দেওয়া থাকে এবং সে স্বামীর জন্য অপেক্ষা করে, তবে রাতে প্রবেশ করাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ এক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হওয়ার কারণটি আর অবশিষ্ট থাকে না।
এই সুন্নাহর আরেকটি গভীর উদ্দেশ্য হলো—স্ত্রীর কোনো খুঁত না খোঁজা। এর অর্থ এই নয় যে, ঘরোয়া পরিবেশ বা পরিবারের বিষয়গুলোর দিকে নজর দেবে না; বরং কোনো সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে তা বড় করে না দেখে গোপন রাখা এবং সংশোধনের চেষ্টা করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। যদি একান্তই অসম্ভব হয়, তবে নীরবে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সম্মানহানি করা বা ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কাম্য নয়।
ফিতরাত বা স্বভাবজাত দশটি কাজ
মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য ও সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ইসলাম কতগুলো স্বভাবজাত কাজের নির্দেশ দিয়েছে, যা পালন করা প্রতিটি মুমিনের জন্য আবশ্যক। হাদীস শরীফে এসেছে:
“দশটি কাজ ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত: গোঁফ ছোট করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করা, নখ কাটা, আঙুলের গিঁটগুলো ধোয়া, বগলের চুল উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের চুল মুণ্ডানো এবং পানি দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করা।” [সহীহ মুসলিম]
এই দশটি কাজের প্রতিটিই মানুষের ব্যক্তিত্ব ও স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। নিচে এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
১. গোঁফ ছোট করা: এই হাদীসটি গোঁফকে এমনভাবে ছোট করার নির্দেশ দেয় যাতে তা উপরের ঠোঁট ঢেকে না ফেলে। অনেকে দাড়ি রাখেন কিন্তু অজ্ঞতাবশত গোঁফ একদম চেঁছে ফেলেন—এটি সুন্নাহ পরিপন্থী। উমর (রা.)-এর গোঁফ ছিল এমন যে তিনি রাগের সময় তাতে চাড়া দিতেন! ইমাম মালিক (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—যে ব্যক্তি গোঁফ চেঁছে ফেলে তার বিধান কী? তিনি বললেন: “আমি মনে করি তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।” [বায়হাকী]
২. দাড়ি লম্বা করা: দাড়ি রাখা পুরুষের সৌন্দর্যের অন্যতম মাধ্যম। আপনি কি দেখেন না—সিংহীর চেয়ে সিংহ, মুরগির চেয়ে মোরগ এবং মাদী পাখির চেয়ে পুরুষ পাখি দেখতে বেশি সুন্দর? এর কারণ হলো তাদের মাথায় বা মুখে বাড়তি পশম বা কেশর থাকে। দাড়ি পুরুষের পৌরুষদীপ্ত হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে; পক্ষান্তরে দাড়ি কামানো নারীদের সাথে সাদৃশ্য তৈরি করে, যা হরমোনের ওপর
