তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

পতনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “আমরা আজ চারপাশ থেকে এমন এক প্রবল যৌন-স্রোতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি যা আমাদের সংস্কৃতির প্রতিটি অণু-পরমাণু এবং জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গ্রাস করে নিচ্ছে। বর্তমান যুগের অন্য যেকোনো বিপ্লবের চেয়ে এই ‘যৌন বিপ্লব’ আমেরিকার প্রতিটি নারী ও পুরুষের জীবনকে অধিক বদলে দিচ্ছে।”

এরই ধারাবাহিকতায় ‘আল-আখবার’ পত্রিকায় (২৬শে মুহররম ১৩৭৭ হিজরী, পৃ. ২) জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানীর উদ্ধৃতি দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল— ‘মার্কিন বিজ্ঞানী বলছেন: আমেরিকান নারীরা যৌন-শীতলতায় আক্রান্ত’। শিকাগোর মনোবিজ্ঞানী ডক্টর জন কিশার সেখানে উল্লেখ করেন— “প্রায় ৯০ শতাংশ আমেরিকান নারী যৌন-শীতলতায় ভুগছেন এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ আজ প্রজনন অক্ষম বা বন্ধ্যাত্বের শিকার। ডক্টর কিশার আরও বলেন—বিপণনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে নারীর নগ্ন ছবি ব্যবহারই মূলত আমেরিকান জনগণের যৌন-সক্ষমতা ও আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।” — (উদ্ধৃতি: ‘হুসুনুনা মুহাদ্দাদাতুন মিন দাখিলিহা’ [আমাদের দুর্গগুলো ভেতর থেকেই হুমকির মুখে], পৃ. ১২১-১২৬)।

উল্লেখ্য যে, ‘উলঙ্গবাদ’-এর সমর্থকদের মধ্যে একটি অদ্ভুত প্রবণতা দেখা গেছে। সবসময় অবাধ মেলামেশা এবং শরীরের প্রতিটি অঙ্গ উন্মুক্ত রাখার ফলে তাদের মাঝে একে অপরের প্রতি যৌন আকর্ষণ একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের দেশের যে নারীরা বেপর্দা চলাফেরা, অবাধ মেলামেশা ও শরীর প্রদর্শন করছে—তারা কেবল নিজেদের ওপরই নয়, বরং পুরো জাতির ওপর এক চরম অপরাধ সংঘটিত করছে।

পশ্চিমা বিশ্ব আজ যে যৌন অরাজকতা আর কামোন্মাদনার চোরাবালিতে পড়ে ধ্বংস ও পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—তাদের বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদদের স্বীকারোক্তিতেই তা আজ স্পষ্ট। আর আমাদের নতুন প্রজন্মের মাঝে এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় এবং এক ধরনের শূন্যতা বিরাজ করায় সেই বিষাক্ত বাতাস আমাদের সমাজেও ঢুকতে শুরু করেছে। এটি যেন এক মারণাস্ত্র কিংবা প্রাণঘাতী বিষের মতো আমাদের প্রজন্মকে তিল তিল করে ধ্বংস করছে।

ঠিক এই কারণেই আমি এই চমৎকার গ্রন্থটি প্রকাশে ত্বরান্বিত হয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হলো—আমাদের এই সচেতন প্রজন্মকে ইসলামের বাতলে দেওয়া বিবাহ-দর্শন সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া। ইসলাম এমন এক মহান জীবনবিধান এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত দ্বীন যা পরিবার প্রথাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। একটি ঈমানদার, উচ্চাভিলাষী ও গঠনমূলক প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে এবং দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করার জন্য ইসলাম সব ধরনের পথনির্দেশনা প্রদান করেছে। একইসাথে স্বামী ও

« <
/ 351
> »