না। নিজের ভেতরে কামনার আগুন জ্বালাতে তখন সে এমন সব দৃশ্য বা পরিস্থিতির খোঁজ করে, যা স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে। এই যৌন শীতলতা তাকে জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আনন্দ ও প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত করে—যে আনন্দ মানুষের আত্মা ও হারানো স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনে। নিজের এই অক্ষমতা তাকে ভেতরে ভেতরে হীনম্মন্যতায় ভোগায়। তখন সে তার পৌরুষ প্রমাণ করতে এবং হারানো যৌন-তৃপ্তি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে সে একের পর এক উপপত্নী বদলায়, পতিতা পল্লীতে হানা দেয় এবং বিচিত্র সব বিকৃত ও অস্বাভাবিক পন্থার আশ্রয় নেয়; যদি তাতে তার স্তিমিত হয়ে যাওয়া পৌরুষ পুনরায় জেগে ওঠে! শুধু তাই নয়, এই অতৃপ্তি তাকে মাদকের নেশায় ডুবিয়ে দেয় কিংবা নিজের সামর্থ্য জাহির করার জন্য সে অপরাধ ও হঠকারিতার পথে পা বাড়ায়।”
এই বিকৃতি কেবল পুরুষের নয়, নারীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ অবাধ মেলামেশার প্রবক্তারা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, তা তখনই সফল হবে যখন নারী-পুরুষ উভয়ের মাঝেই এই শীতলতা ভর করবে। ফলে একে অপরের সাথে মেলামেশা, খেলাধুলা কিংবা নাচের সময় তাদের মনে আর কোনো শারীরিক আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট থাকবে না।
পাঠক যদি পশ্চিমা সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তবে সেখানে এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধির প্রভাব স্পষ্ট দেখতে পাবেন। তাদের এই অবক্ষয় অনিবার্যভাবেই তাদের সেই পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যা আগের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর হয়েছিল।
“আর আপনি আল্লাহর বিধানে কখনো কোনো পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর নিয়মে কোনো বিচ্যুতি দেখবেন না।” [সূরাহ ফাতির: ৪৩]
وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلًا ۖ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلًا
আমি জানি, আমাদের সমাজের অনেক মানুষই ততক্ষণ কোনো দলিল মেনে নিতে চায় না, যতক্ষণ না তা পশ্চিমাদের মুখ থেকে আসে। তাদের জন্য আমি পশ্চিমা বিশ্বের কিছু বিজ্ঞানী ও সংস্থার গবেষণার তথ্য তুলে ধরছি, যাদের অন্তত তারা ‘সেকেলে’ বলে গালি দিতে পারবে না। ‘আল-মুসাওয়ির’ পত্রিকার ১৬৮৯ তম সংখ্যায় (পৃষ্ঠা: ৪) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক পিটিরিম সোরোকিন-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘সেক্সুয়াল রেভল্যুশন’ (যৌন বিপ্লব) থেকে একটি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে—“আমেরিকা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এক চরম যৌন অরাজকতা ও বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পথটি ঠিক সেই পথ, যা প্রাচীন গ্রীক ও রোমান সাম্রাজ্যকে
