তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

কাছে প্রস্তাব নিয়ে এসেছে এবং আমাদের আগ্রহ তোমার সে প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে। আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুযায়ী আমি তোমার সাথে বিয়ে দিচ্ছি—হয় সম্মানের সাথে আটকে রাখা, নয়তো মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া।”
জামাতা ও কন্যার প্রতি উপদেশ

কন্যার প্রতি পিতা-মাতার উপদেশ
দাম্পত্য জীবনের শুরুতে পিতা-মাতার অভিজ্ঞতা এবং উপদেশ একজন নববধূর জন্য পথের দিশারি হিসেবে কাজ করে। ইসলামে এই কল্যাণকর নসিহত প্রদান করা মুস্তাহাব। সাহাবী আনাস (রা.) বর্ণনা করেন— রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবীগণ যখন কোনো নারীর বিয়ে দিতেন, তখন তাঁরা তাকে স্বামীর খিদমত করা এবং স্বামীর অধিকার রক্ষার নির্দেশ দিতেন।
বিদায় বেলায় পিতার মূল্যবান নসিহত
আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবী তালিব তাঁর কন্যাকে বিদায়ের মুহূর্তে চারটি মৌলিক বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন:
১. খবরদার! অতিরিক্ত ঈর্ষা করো না, কারণ এটি তালাকের চাবিকাঠি!
২. বেশি অভিযোগ বা খোঁটা দিয়ো না, কারণ এতে ঘৃণা জন্মায়।
৩. চোখের সুরমা ব্যবহার করবে, কারণ এটি শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার।
৪. আর পানির চেয়ে উত্তম কোনো সুগন্ধি নেই (অর্থাৎ শরীর পরিচ্ছন্ন রাখা)।
একইভাবে ফারাফিসা ইবনুল আহওয়াস যখন তাঁর কন্যা নায়িলাকে আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা.)-এর কাছে পাঠাচ্ছিলেন, তখন তিনি তাকে নসিহত করে বললেন: “হে আমার আদরের কন্যা! তুমি কুরাইশ বংশের নারীদের কাছে যাচ্ছ, যারা সুগন্ধি ব্যবহারে তোমার চেয়ে বেশি সক্ষম। তাই আমার দুটি কথা মনে রেখো—চোখে সুরমা লাগাবে এবং পানি দিয়ে শরীর এমনভাবে পরিষ্কার রাখবে যেন তোমার দেহ থেকে বৃষ্টিভেজা মশক বা চামড়ার পাত্রের মতো স্নিগ্ধ ঘ্রাণ বের হয়।” [আদাবুল আগানী]
উমামাহ বিনতুল হারিসের ঐতিহাসিক উপদেশ
আরব ইতিহাসের অন্যতম প্রজ্ঞাবান নারী উমামাহ বিনতুল হারিস তাঁর কন্যা উম্মে ইয়াসকে বিদায় দেওয়ার সময় যে নসিহত করেছিলেন, তা দাম্পত্য জীবনের এক শাশ্বত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বলেছিলেন:
“হে কন্যা! তুমি আজ সেই পরিবেশ ছেড়ে যাচ্ছ যেখানে তুমি জন্মেছ এবং সেই ঘর ছেড়ে যাচ্ছ যেখানে বড় হয়েছ। আজ তুমি যাচ্ছ এক অপরিচিত নীড়ে, এমন এক সঙ্গীর কাছে যার সাথে তোমার সখ্য নেই। এখন থেকে সে-ই তোমার অধিপতি। তাই তুমি তার জন্য ‘দাসী’ হয়ে থাকো, তবে সেও তোমার জন্য ‘অনুগত গোলাম’ হয়ে থাকবে। তার জন্য এই দশটি বিষয় মনে রেখো:
১ ও ২: অল্পে তুষ্টির সাথে তাঁর আনুগত্য করা

« <
/ 351
> »