আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন যে, মোহরানা বা সদাক্ব হলো নারীর একান্ত নিজস্ব সম্পদ। এর ওপর স্বামীর কোনো আধিপত্য নেই। স্বামী স্ত্রীকে বাধ্য করতে পারবে না যে, মোহরানার টাকা দিয়ে সে আসবাবপত্র কিনে আনুক। কারণ স্ত্রীর আবাসন, ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক-আশাক এবং যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্ব এককভাবে স্বামীর (যদিও বর্তমানে এর উল্টো নিয়মই প্রচলিত)। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় খুশি হয়ে মোহরানার টাকা থেকে কিছু খরচ করে, তবে ভিন্ন কথা।
আজকাল অনেক স্বামী কনের পরিবারকে দামি পোশাক, আসবাবপত্র ও ঘর সাজানোর জিনিসপত্র কেনার জন্য যে চাপ দেয়, তা মূলত মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার নামান্তর এবং আল্লাহর বিধানের চরম পরিপন্থী। কোনো আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি বা পরকালে বিশ্বাসী মুমিন এমনটি করতে পারে না। অনেক যুবক বা স্বামী নিজেই ফরময়েশ দেয় যে—যৌতুকের মালামাল এমন হতে হবে, তেমন হতে হবে! ফলে মেয়ের পরিবারকে মোহরানার সমপরিমাণ বা তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। এতে তারা অনেক সময় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে। এমন যৌতুক বা আসবাবপত্রে কোনো বরকত নেই; কারণ এতে কনের পরিবারের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকে না, বরং এটি স্বামী কর্তৃক জোরপূর্বক আদায়ের একটি কৌশল মাত্র।
কনের পরিবার যদি স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে কিছু দেয় তবে সমস্যা নেই, কিন্তু স্বামীর পক্ষ থেকে কোনো চাপ থাকা উচিত নয়। এক্ষেত্রেও বিলাসিতা ও অহংকার প্রদর্শনী পরিহার করা ওয়াজিব। কেননা আল্লাহ বলেছেন: “নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ।” যারা সোনার প্রলেপ দেওয়া আসবাবপত্র খোঁজে কিংবা সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহারের নেশায় মত্ত হয়, তারা মূলত শয়তানের পথ অনুসরণ করছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার পাত্রে পানাহার করে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন ঢোকায়।”
সুতরাং সর্বোত্তম আয়োজন হলো তা-ই, যেখানে খরচ কম এবং লোকদেখানো অহংকার ও আড়ম্বর নেই। এটিই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে পছন্দনীয় এবং মানুষের অন্তরকে অহংকারের ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখার উপায়। পরিশেষে একটি কথা—কোনো কোনো গ্রামে বাবা মোহরানার টাকা নিজেই ভোগ করেন; এটি সম্পূর্ণ হারাম। যতক্ষণ না মেয়ে স্বেচ্ছায় ও স্বাচ্ছন্দ্যে তার বাবাকে বা অন্য কাউকে সেই সম্পদ থেকে কিছু দান করে।
মোহরানা পরিশোধ না করার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। হাদীস শরীফে এসেছে:
“যে ব্যক্তি
