বড্ড নিঃস্ব)।’ তখন রাসূল (সা.) সাহাবীদের ডেকে বললেন: “তোমাদের এই ভাইয়ের জন্য একটি খেজুরের আঁটি সমপরিমাণ স্বর্ণ সংগ্রহ করো।”
সাহাবীরা তা সংগ্রহ করে দিলেন এবং তাঁরা কনের গোত্রের কাছে গিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করলেন। উল্লেখ্য যে, এই স্বর্ণের আর্থিক মূল্য ছিল তখনকার হিসেবে প্রায় ষাট সিরিয়ান লিরার মতো। এরপর সাহাবীরা সবাই মিলে একটি বকরির ব্যবস্থা করলেন যেন বিয়ের অলিমার (ভোজ) আয়োজন করা যায়। [মুসনাদ আহমাদ; সংক্ষেপিত ও সহীহ]
আজ থেকে পনেরো বছরেরও আগে আমার ‘আস-সাবীলু ইলা উসরাতিন আফদাল’ গ্রন্থে ‘বিয়ের স্বপ্ন’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছিলাম। সেখানে আমি বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে লিখেছিলাম— “চলো বিয়ের পথে পা বাড়াই!—সিনেমায় যাওয়া বা কফিশপে আড্ডা দেওয়ার বদলে এই সোনালী বাক্যটিই এখন আমাদের শ্লোগান হওয়া উচিত। আর বিয়ের এই পথটি হওয়া উচিত অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল। বর্তমানে অগণিত তরুণ-তরুণী যে বিয়ে না করে একাকী জীবন কাটাচ্ছে, তা আমাদের জন্য এক মহাবিপদ এবং ভয়াবহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।”
কোনো জাতি যখন বিয়ের বিষয়টিকে অবহেলা করে এবং কঠিন করে তোলে, তখন তাদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নৈতিক অবক্ষয় ও জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে তারা বহিঃশত্রুর আক্রমণের শিকার হয়। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ঘটনা অত্যন্ত শিক্ষণীয়। জার্মানির কাছে ফ্রান্সের পতনের পর মার্শাল পেত্যাঁ তাঁর জাতির উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন:
“তোমরা তোমাদের পাপের দিকে তাকাও! যার বোঝা আজ বড় ভারী। তোমরা সন্তান নিতে চাওনি, পারিবারিক জীবন ছেড়ে দিয়েছিলে এবং চারিত্রিক ও আত্মিক গুণাবলি বিসর্জন দিয়ে কেবল লালসার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটেছিলে; আজ দেখো সেই লালসা তোমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে!”
সুতরাং একটি শক্তিশালী ও আদর্শ জাতি গঠনে বিয়ের পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নকে অত্যন্ত সহজ ও গুরুত্ববহ করা সময়ের দাবি।
মোহরানা ও তা আদায়ের গুরুত্ব
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী মোহরানা কোনো নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি নারীর একটি সুনিশ্চিত অধিকার এবং স্বামীর ওপর অর্পিত অপরিহার্য ঋণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই অধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন:
“তোমরা নারীদের তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও। অতঃপর তারা যদি স্বেচ্ছায় তার কিছু অংশ তোমাদের ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা সানন্দে ভোগ করতে পারো।” [সূরাহ আন-নিসা: ৪]
স্ত্রীর মোহরানা কোনোভাবেই
