তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বিয়ের প্রস্তাব খলীফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাঁর ছেলে ওয়ালিদের জন্য দিয়েছিলেন; কিন্তু সা‘ঈদ খলীফার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকার করেছিলেন!
বলা বাহুল্য, সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়িব কেবল মসজিদে নামাজ পড়েই জীবন কাটাতেন না; কারণ সেটি প্রকৃত আলিমদের কাজ নয়। বরং তিনি মসজিদে বসে মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দিতেন এবং সমাজ সংস্কারের কাজ করতেন। সৎ পাত্রের কাছে মেয়ে সোপর্দ করার এই রীতি কেবল সালাফে সালেহীনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সকল যুগেই এটি নেককার মানুষদের বৈশিষ্ট্য। আমার এক বন্ধু জানালেন, দামেস্কের মিদান পাড়ার একটি মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন খুতবায় যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করছিলেন এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করছিলেন মোহরানা সহজ করার জন্য। তিনি এক পর্যায়ে বললেন: “আমার কয়েকটি মেয়ে আছে। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ বিয়ে করতে আগ্রহী থাকেন, তবে আমি তাকে কন্যাদান করতে প্রস্তুত। আমার একমাত্র শর্ত হলো পাত্রের দ্বীনদারি ও উন্নত চরিত্র।” এক মাস পেরোনোর আগেই তাঁর সব মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল!
সাহাবী উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর জীবনেও আমরা এর প্রতিফলন দেখি। তিনি বলেন— তাঁর মেয়ে হাফসাহর স্বামী যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন আমি উসমান ইবনে আফফানের সাথে দেখা করে হাফসাহর বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। বললাম, ‘আপনি চাইলে হাফসাহ বিনতে উমরের সাথে আপনার বিয়ে দিতে পারি।’ উসমান বললেন, ‘আমি ভেবে দেখি।’ কয়েক দিন পর আমি আবূ বকরের সাথে দেখা করে বললাম, ‘আপনি চাইলে হাফসাহ বিনতে উমরের সাথে আপনার বিয়ে দিতে পারি।’ আবূ বকর (রা.) চুপ রইলেন, কোনো উত্তর দিলেন না। উসমানের চেয়ে আবূ বকরের ওপর আমি বেশি মনঃক্ষুণ্ণ হলাম। কয়েক রাত পর স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) হাফসাহকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং আমি তাঁর সাথে বিয়ে দিলাম।
পরে আবূ বকরের সাথে আমার দেখা হলে তিনি বললেন, ‘হাফসাহর বিয়ের প্রস্তাবে আমি চুপ থাকায় আপনি হয়তো কষ্ট পেয়েছেন?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন, ‘আসলে রাসূলুল্লাহ (সা.) হাফসাহর কথা আলোচনা করেছিলেন, তা আমি জানতাম। রাসূলের (সা.) গোপনীয় কথা ফাঁস করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেই আমি চুপ ছিলাম। রাসূল (সা.) যদি প্রস্তাব না দিতেন, তবে আমি অবশ্যই হাফসাহকে গ্রহণ করতাম।’ [সহীহ বুখারী]
উমর (রা.)-এর এই কাজ কতই না মহান এবং দূরদর্শী ছিল! এ থেকেই আরবী প্রবাদের

« <
/ 351
> »