জাহান্নামই যথেষ্ট।’ [সূরাহ আল-বাক্বারাহ: ২০৬]।”
পারিবারিক বিরোধে আল্লাহর বিধান মেনে নেওয়ার গুরুত্ব
আমি দম্পতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, পারস্পরিক বিরোধে আল্লাহর বিধান মেনে নেওয়াই হলো সুখী ও স্থায়ী দাম্পত্য জীবনের একমাত্র পথ। এটি যেমন স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের জন্য কল্যাণকর, তেমনি তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য। এছাড়া এই পদ্ধতি কোনো প্রকার তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেয়। কারণ এর মাধ্যমে অপরাধী ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করে নেয় এবং আবেগ বা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী নিজেকে সংশোধন করে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন— “অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণতির দিক দিয়ে উৎকৃষ্ট।” [সূরাহ আন-নিসা: ৫৯]
সন্তানদের কথা ভেবে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করুন
পারিবারিক বিবাদের এই পর্যায়ে আমি স্বামী-স্ত্রীর বিবেকের কাছে জোরালো আকুতি জানাচ্ছি— আপনারা নিজ সন্তানদের খাতিরে আল্লাহকে ভয় করুন। নিজেদের জেদ ও অহংকার বিসর্জন দিন এবং এই নিষ্পাপ শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করুন। মনে রাখবেন, মা-বাবার বিবাদ ও বিচ্ছেদের ফলে শিশুদের মানসিক, নৈতিক ও ভবিষ্যৎ জীবন চরম সংকটের মুখে পড়ে।
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মানুষের অন্য যেকোনো অপরাধের চেয়ে একটি সাজানো সংসার ভেঙে দেওয়াতে শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়। কারণ পরিবার ভেঙে যাওয়ার অর্থ হলো সন্তানদের এবং গোটা জাতির ভবিষ্যৎ ধূলিসাৎ হওয়া।
স্বামী-স্ত্রীর মূলমন্ত্র
প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রীর মূলমন্ত্র হওয়া উচিত নবীজি (সা.)-এর এই বাণী— “কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে (স্ত্রীকে) ঘৃণা না করে। যদি তার কোনো একটি আচরণ সে অপছন্দ করে, তবে তার অন্য কোনো আচরণে সে অবশ্যই সন্তুষ্ট হবে।” [সহীহ মুসলিম]
একটি চমৎকার ঐতিহাসিক বর্ণনা
এক সাহাবী—যিনি ছিলেন দৃষ্টিহীন—একবার তাঁর এক আত্মীয়কে ডাকলেন যাতে সে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর মাঝে বিবাদ মিটিয়ে দেয়। সেই আত্মীয় এসে ওই সাহাবীর স্ত্রীর প্রশংসা করার পরিবর্তে কৌশলে সাহাবীর গুণগান গাইতে শুরু করল। সে বলল— “হে অমুকের আম্মা! তোমার স্বামী এতই পরহেজগার ও অল্পেতুষ্ট যে, সামান্য পাখির খাবারের মতো খাবারেই তাঁর পেট ভরে যায়। শরীর কিছুটা ভেঙে পড়লেও তিনি হলেন জ্ঞানের পাহাড়। তাঁর চোখ বা
