তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ইচ্ছা কাছে ঠাঁই দিতে পারেন। আর আপনি যাদের দূরে রেখেছেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে কাছে নিতে চাইলে তাতে আপনার কোনো গুনাহ নেই’ [সূরাহ আল-আহযাব: ৫১]। তখন আমি (রসিকতা করে) বললাম— ‘আমি দেখছি আপনার প্রতিপালক আপনার ইচ্ছাগুলো পূরণেই তৎপর’।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি ঘটনা। আয়েশা (রা.)-এর সরল মন্তব্যে রাসূল (সা.)-এর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং একই সাথে আল্লাহর বিধানের প্রতি তার আস্থা প্রকাশ পেয়েছে।

ঘটনা ৩: উট বিনিময়ের কাণ্ড ও আয়েশা (রা.)-এর আকুলতা

আয়েশা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে— “রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সফরে বের হতেন, তখন স্ত্রীদের মাঝে লটারি করতেন। একবার লটারিতে আয়েশা ও হাফসার নাম এল, ফলে তাঁরা দুজনেই তাঁর সাথে সফরে বের হলেন। রাতে চলার সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশার উটের পাশে পাশে হাঁটতেন এবং তাঁর সাথে কথা বলতেন।

এক রাতে হাফসা (রা.) আয়েশা (রা.)-কে বললেন, ‘আজ রাতে কি তুমি আমার উটে চড়বে আর আমি তোমার উটে? তাহলে আমরা দুজনেই ভিন্ন পরিবেশ দেখতে পাব।’ আয়েশা (রা.) রাজি হলেন এবং তাঁরা উট বিনিময় করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশার উটের কাছে এলেন (যেখানে হাফসা বসে ছিলেন), তাঁকে সালাম দিলেন এবং গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁর সাথেই গল্প করতে করতে চললেন। আয়েশা (রা.) যখন নবীজিকে কাছে পেলেন না, তখন তাঁর প্রচণ্ড ঈর্ষা হলো!

কাফেলা যখন যাত্রাবিরতি করল, আয়েশা (রা.) যন্ত্রণায় নিজের পা ইযখির ঘাসের ঝোপে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন আর আক্ষেপ করে বলছিলেন— ‘হে রব! আমার ওপর কোনো বিচ্ছু বা সাপ লেলিয়ে দিন যা আমাকে দংশন করবে! অথচ আপনার রাসূলকে আমি কিছুই বলতে পারছি না (যেহেতু অদলবদলের বুদ্ধিটা আমারই ছিল)’।” [সহীহ মুসলিম]

এই ঘটনায় আয়েশা (রা.)-এর মানবিক দুর্বলতা ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে এতটাই অনুতপ্ত হয়েছিলেন যে, মৃত্যু কামনা করছিলেন। এটি তার হৃদয়ের বিশুদ্ধতা ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি তার অনুরাগের পরিচয়।

বিশ্লেষণ ও শিক্ষা

আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর এই আবেগঘন মুহূর্তগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি নবীজি (সা.)-কে কতটা গভীরভাবে ভালোবাসতেন। এই ঈর্ষা কোনো বিদ্বেষপ্রসূত ছিল না, বরং ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও তাঁর এই মানবিক আবেগগুলোকে অত্যন্ত ধৈর্য ও স্নেহের সাথে সামাল দিতেন,

« <
/ 351
> »