তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. পুরুষদের উচিত রাসূল (সা.)-এর এই সহনশীলতা ও ধৈর্য থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং স্ত্রীদের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতি বুঝতে চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী চলার এবং দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
আম্মাজান আয়েশা (রা.)-এর মমতা ও ঈর্ষার কিছু বিরল মুহূর্ত

পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা আয়েশা (রা.)-এর ঈর্ষা ও রাসূল (সা.)-এর ধৈর্যের কিছু দৃষ্টান্ত দেখেছি। এবার আমরা আরও কিছু ঘটনা দেখব, যা আয়েশা (রা.)-এর রাসূল (সা.)-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং তার মানবিক আবেগের পরিচয় দেয়।

ঘটনা ১: রাসূল (সা.)-এর রাতের বের হওয়া ও আয়েশা (রা.)-এর অনুসরণ

আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন— “এক রাতে আমার ঘরে থাকার পালা ছিল। নবীজি (সা.) ভাবলেন আমি হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছি, তাই তিনি নিঃশব্দে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। আমার মনে সন্দেহ হলো যে, তিনি হয়তো অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে গিয়েছেন; ঈর্ষার বশে আমি তাঁর পিছু নিলাম। দেখলাম তিনি ‘জান্নাতুল বাকী’ কবরস্থানে গিয়েছেন। এরপর তিনি ফিরতে লাগলে আমিও ফিরতে শুরু করলাম। তিনি দ্রুত হাঁটলে আমিও দ্রুত হাঁটলাম, তিনি দৌড়ালে আমিও দৌড়ালাম। শেষ পর্যন্ত আমি তাঁর আগেই ঘরে পৌঁছে গেলাম (এবং শুয়ে পড়লাম)। তিনি ঘরে ঢুকে আমার দ্রুত নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনে বললেন— ‘হে আয়েশ! তোমার কী হয়েছে? তোমার বুক এমন দ্রুত কাঁপছে কেন?’ আমি তাঁকে সব খুলে বললাম। তিনি বললেন— ‘তুমি কি ভেবেছিলে যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার ওপর জুলুম করবেন (অর্থাৎ তোমার পালার রাতে অন্য কারো কাছে যাবেন)?’” [সহীহ মুসলিম]

এই ঘটনায় আমরা দেখি, আয়েশা (রা.)-এর ঈর্ষা তাকে রাসূল (সা.)-এর পিছু নিতে প্ররোচিত করেছিল। কিন্তু রাসূল (সা.) তাঁকে শাসন না করে বরং স্নেহের সাথে বুঝিয়ে দিলেন যে, তিনি কখনো তাঁর প্রাপ্য হক নষ্ট করবেন না।

ঘটনা ২: আয়েশা (রা.)-এর ঈর্ষা ও কুরআনের আয়াত

আয়েশা (রা.) আরও বলেন— “আমি সেইসব নারীদের প্রতি মনে মনে ঈর্ষা পোষণ করতাম, যারা নিজেদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সমর্পণ করত (কোনো মোহরানা ছাড়া বিয়ের জন্য)। আমি ভাবতাম, কোনো নারী কি নিজে থেকে নিজেকে এভাবে দিতে পারে! এরপর যখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন— ‘আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে

« <
/ 351
> »