তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

ফেলব)।” এ কথা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কানে পৌঁছালে তিনি বললেন— “তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে অবাক হচ্ছ? আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাবান, আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক মর্যাদা সচেতন।” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

এখানে লক্ষণীয় যে, সাহাবী (রা.) একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন, কিন্তু ইসলাম তা অনুমোদন করলেও তাকে সন্দেহ ও অহেতুক ঈর্ষা থেকে সতর্ক করেছে।

আবু আল-ফারাজ ‘কিতাবুন নিসা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন— “মুয়াবিয়া (রা.) বলেছেন: আভিজাত্যের তিনটি লক্ষণ হলো—ক্ষমা করা, শরীরের গঠন ঠিক রাখা এবং ঈর্ষার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বর্জন করা। কায়স ইবনে যুহাইর এক আরব গোত্রে আতিথ্য গ্রহণ করে বললেন: আমি আত্মমর্যাদাবান, আমি গর্ব করি এবং আমি অন্যায়ের প্রতিবাদী। তবে যতক্ষণ কোনো কারণ না দেখি ততক্ষণ ঈর্ষা করি না, যতক্ষণ কোনো মহৎ কাজ না করি ততক্ষণ গর্ব করি না এবং যতক্ষণ অত্যাচারিত না হই ততক্ষণ প্রতিবাদ করি না।”

আবু আল-ফারাজ বলেন, অনেকেই মুয়াবিয়া (রা.)-এর এই কথার সমালোচনা করেছেন যে তিনি কেন ‘অতিরিক্ত ঈর্ষা বর্জন’কে আভিজাত্যের অংশ বললেন। কিন্তু আমি এতে কোনো দোষ দেখি না। কারণ ‘অতিরিক্ত ঈর্ষা’ মানে হলো সীমা লঙ্ঘন করা, যা নারীকে অনর্থক সন্দেহ ও জুলুমের শিকার করে।

গয়রাত ও ভালোবাসার সম্পর্ক

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) গভীর একটি বিষয় তুলে ধরেছেন— “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি যে ব্যক্তির ভালোবাসা যত বেশি, তার আত্মমর্যাদাবোধও তত বেশি। যদি কারো অন্তরে আল্লাহর জন্য কোনো গয়রাত বা মর্যাদা সচেতনতা না থাকে, তবে বুঝতে হবে তার হৃদয়ে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাও নেই। যে ব্যক্তি দাবি করে সে কাউকে ভালোবাসে, অথচ তার সামনেই তার প্রিয়জনের অমর্যাদা করা হচ্ছে, আর তার মনে কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না—তার ভালোবাসা কেবল মিথ্যা দাবি ছাড়া আর কিছু নয়। একজন মুমিন কীভাবে দাবি করতে পারে সে আল্লাহকে ভালোবাসে, অথচ আল্লাহর বিধান লঙ্ঘিত হতে দেখে তার রক্ত গরম হয় না? অন্তত নিজের নফস ও শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে তো তার গয়রাত থাকা উচিত! যদি অন্তর থেকে এই আত্মমর্যাদাবোধ চলে যায়, তবে ভালোবাসা এমনকি দ্বীনও বিদায় নেয়।”

এই আত্মমর্যাদাবোধই হলো জিহাদ এবং ‘আমর বিল মা’রুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ)-এর মূল চালিকাশক্তি। একারণেই জিহাদকে ভালোবাসার একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ

« <
/ 351
> »