তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

জীবনে তাদের আত্মা আগুনের তন্দুর সদৃশ একটি গর্তে অবস্থান করবে, যার নিচ থেকে আগুনের শিখা আসবে। আগুনের লেলিহান শিখা যখন তাদের স্পর্শ করবে, তখন তারা চিৎকার করে উপরে উঠে আসবে, আবার শিখা কমে গেলে নিচে পড়ে যাবে। কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই তাদের শাস্তি চলতে থাকবে; যেমনটি নবী কারীম (সা.) স্বপ্নে দেখেছিলেন—আর নবীদের স্বপ্ন তো সন্দেহাতীতভাবে ওহী।” [রওদাতুল মুহিব্বীন]

আল্লাহ তাআলা রহমানের বান্দাদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

“আর রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে… এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যা হারাম করেছেন যথাযথ কারণ ছাড়া সেই প্রাণ হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করবে, সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে।” [সূরাহ আল-ফুরকান: ৬৩-৬৯]

হাদীসে ব্যভিচারের ভয়াবহতা

ইবনে মাসঊদ (রা.) বর্ণনা করেন— আমি আরজ করলাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি?” তিনি বললেন— “আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” আমি বললাম, “তারপর কোনটি?” তিনি বললেন— “তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে সে তোমার সাথে আহার করবে (অভাবের ভয়ে)।” আমি পুনরায় বললাম, “এরপর কোনটি?” তিনি বললেন— “তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা…” [সহীহ বুখারী ও মুসলিম]

রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন সকালে আমাদের বললেন— “আজ রাতে আমার কাছে দুজন (ফেরেশতা) এলেন এবং আমাকে নিয়ে গেলেন। তাঁরা আমাকে বললেন— ‘চলুন’। আমি তাঁদের সাথে রওনা হলাম… আমরা একটি তন্দুরের মতো গর্তের কাছে পৌঁছলাম যেখান থেকে শোরগোল ও কান্নার আওয়াজ আসছিল। আমি উঁকি দিয়ে দেখলাম সেখানে অনেক উলঙ্গ নারী-পুরুষ রয়েছে। নিচ থেকে আগুনের শিখা তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল এবং শিখার স্পর্শে তারা চিৎকার করে উঠছিল।” হাদীসের শেষে বলা হয়েছে— “তন্দুর সদৃশ গর্তের সেই উলঙ্গ নারী-পুরুষেরা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী।” [সহীহ বুখারী]

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন: “কোনো মুসলিমের রক্ত হালাল নয়—যে সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল—তবে তিনটি কারণ ছাড়া: ১. বিবাহিত ব্যভিচারী, ২. জীবনের বদলে জীবন (খুনী) এবং ৩. যে দ্বীন ত্যাগ করে জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।” [সহীহ বুখারী

« <
/ 351
> »