তরুণ প্রজন্মের মনে বিপথগামিতা আর চারিত্রিক স্খলনের বিষবৃক্ষ রোপণ করছে। ফলে বহু যুবক-যুবতী আজ বিভ্রান্ত হয়ে পাপাচার আর ধ্বংসের পথে পা বাড়াচ্ছে।
যৌন বিষয়ক বইয়ের লেখকদের অন্যতম প্রধান চক্রান্ত ও প্রলোভন হলো—নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং এর অনুষঙ্গ হিসেবে নাচ-গান, অবাধ পর্যটন ও নির্জনে সাক্ষাতের ব্যাপক প্রচারণা চালানো। তাদের দাবি, এগুলো নাকি নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন প্রবৃত্তিকে মার্জিত ও পরিশীলিত করে!
আদতে এসব দাবি বাস্তবতা ও সত্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের যুবক-যুবতীদের মাঝে পাপাচার ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করা এবং সমাজকে পতনের মুখে ঠেলে দেওয়া।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো—এই লেখকরা অবাধ মেলামেশার ধারণাকেই উসকে দিচ্ছেন। বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য সমাজ এই ব্যাধির কবলে পড়ে এমন ভয়াবহ ও লোমহর্ষক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে যা ভাবলে গা শিউরে ওঠে। পাশ্চাত্যে এই অবাধ মেলামেশার ফলে দুটি ভয়াবহ বিপদ দেখা দিয়েছে—
প্রথমত: অশ্লীলতা ও বেলেল্লাপনার বিস্তার, পারিবারিক ব্যবস্থার ভাঙন এবং পাপাচারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হওয়া; যা পুরো সমাজকেই চরম সংকটের মুখে ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন সাংবাদিক জ্যাক লাইট ও লি মর্টিমার তাদের ‘মারিয়া: আ স্টেট রুলড বাই গ্যাংস’ (অনুবাদক: হাবীব নাহুলী, পৃ. ২৬) নামক গ্রন্থে লিখেছেন—“নারীদের এই লাগামহীন স্বাধীনতার ফলে এমন কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো—আমেরিকান পুরুষদের বিয়েভীতি। বিশেষ করে যারা নিজেদের ‘স্বাধীনচেতা’ দাবি করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চলতে অভ্যস্ত, সেই সব মেয়েদের বিয়ে করতে তারা নারাজ। কারণ তাদের দৃষ্টিতে এই নারীরা পরিবার গঠন এবং সন্তান লালন-পালনের যোগ্য নয়।”
আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষের অবস্থা আজ তা-ই। আমরা যদি এই সামাজিক সমস্যার গভীরে দৃষ্টিপাত করি, তবে এর পেছনে আরও একটি প্রধান কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তা হলো—আমেরিকান পুরুষরা তাদের জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য এখন সবচেয়ে সহজ ও সস্তা উপায় খুঁজে নিয়েছে। অফিস, ক্লাব, সরাইখানা, রেস্তোরাঁ কিংবা সমুদ্রসৈকত—যেকোনো জায়গাতেই এখন নারী সাহচর্য তাদের জন্য সহজলভ্য। ফলে সে তার পছন্দমতো যেকোনো একজনকে বেছে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সঙ্গী বা উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করে। এতে করে তাকে বিয়ের মতো কোনো স্থায়ী আর্থিক দায়বদ্ধতা বা ভরণপোষণের বোঝা বইতে হয় না। এমনকি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও রেস্তোরাঁর পরিচারিকা কিংবা
