প্রদর্শন করে বাইরে বের হয়ো না।” [সূরাহ আল-আহজাব: ৩৩]। হাদীসে এসেছে: “তিন প্রকার ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি আর কিছু জিজ্ঞেস করো না: ১. যে জামাত ত্যাগ করল এবং নেতার অবাধ্য হয়ে মারা গেল, ২. যে দাস বা দাসী মালিকের কাছ থেকে পালিয়ে গিয়ে মারা গেল, ৩. আর ওই নারী যার স্বামী তাকে যাবতীয় ভরণপোষণ দিয়ে দূরে সফরে গেল, অথচ সে তার অবয়ব ও রূপ প্রদর্শন করে (বেপর্দা হয়ে) বাইরে বের হলো—তাদের সম্পর্কে তুমি আর কিছু জিজ্ঞেস করো না।”
৩. পোশাকটি পুরু ও ঘন হতে হবে, স্বচ্ছ নয়
হিজাবের পোশাক হবে মোটা ও ঘন বুননের, এমন নয় যার ভেতর দিয়ে শরীরের বর্ণ বা গঠন দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেছেন: “আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু নারী হবে যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকবে, যাদের মস্তক হবে বুখতি উটের কুঁজের মতো…” [সহীহ মুসলিম]। অর্থাৎ এমন পাতলা কাপড় যা দিয়ে শরীর দেখা যায়, তা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তা নারীকে নামে-মাত্র পোশাক পরিহিতা রাখে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাকে উলঙ্গ করে দেয়।
৪. পোশাকটি প্রশস্ত ও ঢিলেঢালা হতে হবে, সংকীর্ণ বা টাইট নয়
পোশাক এত ঢিলেঢালা হবে যেন শরীরের কোনো অঙ্গের গঠন ফুটে না ওঠে। উসামা বিন যায়দ (রা.) বর্ণনা করেন— রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে একটি ঘন বুননের কিবতি (মিসরীয়) কাপড় উপহার দিয়েছিলেন যা দিহইয়া আল-কালবী তাঁকে দিয়েছিলেন। আমি সেটি আমার স্ত্রীকে পরতে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: “কী ব্যাপার, তুমি সেই কিবতি কাপড়টি পরছ না কেন?” আমি আরজ করলাম, সেটি আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। তখন তিনি বললেন: “তাকে বলো যেন এর নিচে সে একটি সায়া বা অন্তর্বাস ব্যবহার করে। কারণ আমার ভয় হচ্ছে, কাপড়টি (শরীরের সাথে লেগে গিয়ে) তার হাড়ের গঠন ফুটিয়ে তুলতে পারে।”
৫. পোশাকটি সুগন্ধিযুক্ত বা সুবাসিত হবে না
হিজাবের পোশাকে কোনো প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে না যা পরপুরুষের মনকে আকর্ষণ করে। নবী করীম (সা.) কঠোর ভাষায় বলেছেন: “যেকোনো নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে কোনো জনসমষ্টির পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যেন তারা তার ঘ্রাণ পায়, তবে সে একজন ব্যভিচারিণী।” [নাসায়ী, তিরমিযী ও হাকেম; হাকেম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন]। আল্লামা তিবীর মতে,
