ব্যক্তিত্বকে শক্তিশালী করে এবং বানরের মতো অনুকরণের দাস না হয়। আধুনিক স্রোত ও পশ্চিমা ফ্যাশনের সামনে তাদের সংকল্প যেন অটল থাকে—তা পোশাকের ক্ষেত্রে হোক কিংবা ঘরের আসবাব ও অভ্যাসের ক্ষেত্রে। মনে রাখবেন, দাম্পত্য সুখ নির্ভর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি ও বোঝাপড়ার ওপর; অধিক আসবাবপত্র, দামী পোশাক আর অতিথি-প্রতিবেশীদের সামনে অহংকার প্রদর্শনের ওপর নয়। এই উপদেশগুলো উপেক্ষা করার কারণেই আজ ঘরে ঘরে বিবাদ, কলহ ও বিচ্ছেদ দেখা দিচ্ছে। সুতরাং সাবধান!
১৯৬০ সালের ৩০শে অক্টোবর রয়টার্স রোম থেকে ‘ফ্যাশন জগতের দশ আজ্ঞা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করেছিল। জনৈক রেগিনাল্ডো ফ্রানকুডো, যিনি বেপর্দা চলাফেরার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন, তিনি এই উপদেশগুলো দিয়েছিলেন:
১. ফ্যাশনকে তোমার ওপর এমনভাবে জয়ী হতে দিও না যাতে তুমি তোমার স্বাধীনতা ও বিবেক হারিয়ে ফেলো।
২. নিজের মনে প্রশান্তি আনতে ফ্যাশনকে মাধ্যম বানানোর বৃথা চেষ্টা করো না।
৩. তোমার পোশাকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখো।
৪. তোমার দেহ ও আত্মাকে সম্মানিত করো, যেন একজনের গাম্ভীর্য অন্যজনের দর্পণ হয়।
৫. যারা তোমার চেয়ে দামী পোশাক পরে তাদের তোষামোদ করো না।
৬. এমন পোশাক পরো না যা প্রতিবেশীদের বিরক্ত করে।
৭. যে পোশাক অন্যের প্রয়োজন হতে পারে তা নষ্ট করো না।
৮. ফ্যাশনের মোহে নিজের বাজেটের চেয়ে বেশি খরচ করে নিজেকে ও অন্যকে ধোঁকা দিও না।
৯. বিলাসিতার পেছনে হাহাকার করো না এবং অন্যের পোশাকের মোহে মুগ্ধ হয়ে থেকো না।
১০. যখন অনেক মানুষ এক লোকমা খাবারের জন্য হাহাকার করছে, তখন তুমি আধুনিক ফ্যাশনের পেছনে অন্ধের মতো ছুটো না!
দেখুন, এই উপদেশগুলো অনেকটা ইসলামের শিক্ষার সাথে মিলে যায়, যা পশ্চিমাদের মুখ থেকে এসেছে; অথচ তারা তো ‘রক্ষণশীল’ নয়! তবে আমাদের নারীরা কেন এগুলো মেনে চলবে না?
পরিশেষে, কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের ব্যাপারে মহান শরীয়তের সতর্কবাণী উল্লেখ করে আমি মুমিন বোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, বিজাতীয় কায়দায় চুলে কলপ করা কিংবা রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা কেবল হারাম-ই নয়, বরং এটি চুল পড়ে যাওয়ারও অন্যতম কারণ। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল মোনয়েম আল-মুফতী (তাবীবুক আল-খাস, ১৯৭০) বলেন— “চুল সোজা করার কৃত্রিম পদ্ধতিগুলো চুল পড়ার জন্য দায়ী। রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে চুলের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়।
