তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

‘আস্বাদনকারী’ (যৌন বৈচিত্র্য সন্ধানী) নারী-পুরুষেরা ভুলে বসে আছে। তারা কেবল নিছক আনন্দ আর নতুনের মোহে মনে করে যে, নতুন কোনো নারীর মাঝে বোধহয় এমন কিছু পাওয়া যাবে যা পুরোনো স্ত্রীর কাছে নেই। এটি এক জঘন্য ভুল ধারণা, যা তাদের জীবনে রাশি রাশি অশান্তি বয়ে আনে এবং অকাল বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দেয়। এমনকি কখনো কখনো এটি তাদের ব্যভিচারের মতো মহাপাপের দিকেও প্ররোচিত করে—আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
এসবই শয়তানের কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাহাবী আমর ইবনুল আস (রা.) কতই না সত্য বলেছেন— “যতদিন আমার কাপড় আমার শরীর ঢেকে রাখে ততদিন আমি তাতে বিরক্ত হই না, যতদিন আমার বাহন আমাকে বহন করে ততদিন আমি তাতে ক্লান্ত হই না এবং যতদিন আমার স্ত্রী আমার সাথে উত্তম আচরণ করে ততদিন আমি তার প্রতি বিমুখ হই না।”
ইমাম ইবনুল জাওজী (রহ.) তাঁর ‘সাইদুল খাতির’ গ্রন্থে লিখেছেন— “সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সুখী, যে কোনো নারী বা দাসী লাভ করার পর তার প্রতি অনুরক্ত হয় এবং নারীটিও তার প্রতি অনুরাগী হয়; আর যখন সে তার সততা ও দ্বীনদারী সম্পর্কে নিশ্চিত হয়, তখন তাকেই জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করে। দাম্পত্য ভালোবাসা দীর্ঘস্থায়ী করার প্রধান উপায় হলো—দৃষ্টিকে সংযত রাখা। যখনই কোনো পুরুষ তার দৃষ্টিকে অবাধ করে দেয় কিংবা পরনারীর প্রতি লালায়িত হয়, তখন নতুনের প্রতি সেই লোভ তার স্বভাবকে তিক্ত করে তোলে এবং নিজ স্ত্রীর সাথে সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি করে। সে বাইরের চাকচিক্য দেখে মুগ্ধ হয় এবং আগন্তুক সুন্দরীর মোহে পড়ে ঘরের আপন মানুষটির সাথে জীবন যাপনকে বিষময় করে তোলে।”
কবি যেমনটি বলেছেন—
“পুরুষ যতদিন তার চপল আঁখি পরনারীর নয়নে ডুবিয়ে রাখবে,
ততদিন সে বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে থাকবে।
তার চোখ যা দেখে আনন্দ পায়, তা-ই তার হৃদয়ের যন্ত্রণার কারণ হয়;
এমন আনন্দকে স্বাগতম জানাবার কিছু নেই, যা শেষে কেবল ক্ষতিই বয়ে আনে।”
অতঃপর সেই দ্বিতীয় নারীটিও একসময় প্রথম নারীর মতোই পুরোনো হয়ে যায় এবং মন তখন তৃতীয় একজনের খোঁজ করে—এভাবে এই নেশার কোনো শেষ নেই! বরং কাম্য বস্তু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং নতুন সুন্দরের মোহ ত্যাগ করাই দাম্পত্য জীবনকে শান্তিময় করে তোলে। যে ব্যক্তি এই নসিহত গ্রহণ করবে

« <
/ 351
> »