তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

করবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এই শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। তিনি যেন আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের জন্য চক্ষুশীতলকারী করেন, আমাদের সন্তানদের নেককার ও আদর্শবান করেন এবং আমাদের পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করার ক্ষমতা দেন। তিনি আমাদেরকে কুদৃষ্টি, অশ্লীলতা ও পাপাচার থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমীন, ছুম্মা আমীন।
প্রকাশ্য এক ধ্রুব সত্য
পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা কুদৃষ্টির কুফল ও তার প্রতিকার সম্পর্কে জেনেছি। এবার আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করব, যা দাম্পত্য জীবনের সুখ ও স্থিতিশীলতার জন্য এক চমৎকার সমাধান।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন— “তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে দেখে এবং সে তার অন্তরে দাগ কাটে (অর্থাৎ মনে কামনার উদ্রেক হয়), তবে সে যেন নিজ স্ত্রীর কাছে যায় এবং তার সাথে মিলিত হয়। নিশ্চয়ই এটি তার অন্তরের সেই কুচিন্তাকে দূর করে দেবে।” [সহীহ মুসলিম]
এই হাদীসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি আমাদের শেখায় যে, পরনারীর প্রতি আকর্ষণ দূর করার সর্বোত্তম উপায় হলো নিজ স্ত্রীর কাছে যাওয়া। স্ত্রীই হলো পুরুষের জন্য বৈধ ও পবিত্র তৃপ্তির উৎস। তার মাধ্যমেই সে তার যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং মনে শান্তি আনতে পারে।
ইমাম ইবনুল জাওজী (রহ.) তাঁর ‘যাম্মুলহাওয়া’ গ্রন্থে (পৃ. ৩১৩) লিখেছেন— “জেনে রেখো, কামনার অনুসারী প্রেমাসক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ক্ষেত্রে পশুর সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কারণ তারা কেবল যৌনাচারের স্বাদ মেটাতেই তুষ্ট নয়—যা মানুষের বিবেকের কাছে নিকৃষ্টতম কামনা—বরং তারা সেই স্বাদটুকু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির মাধ্যমেই পেতে চায়। এভাবে তারা এক কামনার সাথে অন্য কামনাকে যুক্ত করে এবং প্রবৃত্তির কাছে নিজেদের বারবার লাঞ্ছিত করে। একটি পশু কেবল তার শরীরের তাড়না মেটাতেই মনোযোগী থাকে, কিন্তু এই মানুষগুলো তাদের বিবেককে পর্যন্ত ব্যবহার করছে প্রবৃত্তির লালসা চরিতার্থ করার ফন্দি আঁটতে!”
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. ‘নোবেল কিস’ তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে যৌন-রহস্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন— “পরনারীর সাথে মিলিত হয়ে মানুষ যে তৃপ্তি খোঁজে, তার সবই সে নিজ স্ত্রীর মাঝে পেতে পারে। আর নিঃসন্দেহে স্ত্রীর কাছে পাওয়া সেই তৃপ্তিই হবে অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং শ্রেষ্ঠ!” [মাজাল্লাতুল মুখতার, এপ্রিল ১৯৪৬, পৃ. ২৬]
এটি একটি মহৎ হিকমত বা প্রজ্ঞা, যা বর্তমানের তথাকথিত

« <
/ 351
> »