তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

বিয়ে নেই।” [মুসনাদ আহমাদ, সুনানুত তিরমিযী, সুনান আবূ দাউদ ও সুনান ইবনে মাজাহ; হাদীসটি হাসান]
“যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল।” [মুসনাদ আহমাদ, সুনানুত তিরমিযী ও সুনান ইবনে মাজাহ]
হানাফী মাযহাবের অনুসারীরা প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে অভিভাবকহীন বিয়ের পক্ষে যে হাদীসটি পেশ করেন—“বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারী তার অভিভাবকের চেয়ে নিজের ব্যাপারে বেশি হকদার”—তার ব্যাখ্যায় আল-মুনাওয়ী (রহ.) ‘ফায়যুল ক্বাদীর’ গ্রন্থে বলেন: “এর অর্থ হলো, অভিভাবক তাকে তার মৌখিক অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবেন না; মত দেওয়ার ক্ষেত্রে সে বেশি হকদার।” অর্থাৎ হানাফীদের দেওয়া ব্যাখ্যাটি অন্যান্য সহীহ হাদীসের পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্টভাবে অভিভাবকের শর্তারোপ করা হয়েছে।

বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের পরামর্শ উপেক্ষা করায় অনেক সময় মারাত্মক বিপদ ঘটে। অভিজ্ঞতাহীন নারী অনেক সময় কোনো লম্পট পুরুষের মিষ্টি কথায় প্রলুব্ধ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। এতে তার জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। তবে অভিভাবকের সম্মতি যেমন জরুরি, ইসলাম সেটিকে কেবল নারীর কল্যাণের সাথেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। যদি অভিভাবক ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া কেবল নিজের খেয়ালখুশিমতো বিয়েতে বাধা দেন, তবে নারী কাজীর (বিচারক) শরণাপন্ন হতে পারেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এবং পাত্র সৎ ও যোগ্য হলে কাজী নিজেই তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেবেন। মাঝে মাঝে দেখা যায় কিছু অভিভাবক অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ করেন—নিজের মেয়েকে কেবল ঘরের কাজের জন্য অথবা বিমাতার সেবার জন্য আটকে রাখেন; এটি চরম মূর্খতা ও সংকীর্ণমনা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।

প্রেমাস্পদদের জন্য বিয়ের মতো উত্তম কিছু নেই
ইসলামী শরীয়াহ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ ও পছন্দকে সম্মান প্রদান করেছে। বিশেষ করে বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রীর পারস্পরিক পছন্দ ও ভালোবাসাকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ব্যক্তি এসে আরজ করলেন:
“হে আল্লাহর রাসূল! আমার তত্ত্বাবধানে একটি ইয়াতীম মেয়ে আছে। তাকে বিয়ের জন্য একজন বিত্তশালী ব্যক্তি এবং একজন নিঃস্ব ব্যক্তি প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা বিত্তশালী লোকটিকে পছন্দ করি, কিন্তু মেয়েটি পছন্দ করে সেই নিঃস্ব লোকটিকে!”
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সমাধান দিয়ে বললেন:
“পরস্পরকে ভালোবাসে—এমন দুই ব্যক্তির জন্য বিয়ের চেয়ে উত্তম আর কিছু দেখা যায়নি।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ১৮৪৭; আল-মুস্তাদরাক, হাদীস: ২৭০২; আল-বায়হাকী ও তাবারানী। ইমাম হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন

« <
/ 351
> »