তুহফাতুল আরূস

« <
/ 351
> »

সমালোচকদের জবাবে লিখেছেন:
“পুরুষদের মাঝে একটি বদ্ধমূল ধারণা এই যে, কোনো কিছু খারাপের দিকে গেলে তার সমস্ত দায়ভার নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক সমাজের সংকট হলো ‘পুরুষত্বের আতিশয্য’ বা পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের সংকট…।
আধুনিক সমাজের জটিলতা, ভাঙন এবং নৈতিক ও যৌন অরাজকতার যে প্রবণতা—তার জন্য একমাত্র পুরুষই দায়ী। যখন স্বাধীনতার পর্দা উন্মোচিত হলো, তখন পুরুষরাই লাগামহীন যৌন বিপ্লবের ডাক ছড়িয়ে দিল। আর এটি ছিল এমন এক ‘বাজার’, যেখানে নারী কেবল একটি ‘কাঁচামাল’ ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার যুক্তির সপক্ষে প্রমাণ হলো—আধুনিক পুরুষের কাছে নৈতিকতার শৃঙ্খল ভাঙা কিংবা যৌন স্বেচ্ছাচারিতা কেবল কোনো প্রেমঘটিত রোমাঞ্চ নয়, বরং একে বলা যায় একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জুয়া।
এটি নিশ্চিত যে, বিশ্বজুড়ে বয়ে যাওয়া এই বিধ্বংসী যৌন উম্মাদনার ঢেউয়ের পেছনে নারীদের কোনো হাত নেই। বরং পুরুষরাই একে উৎসাহিত করছে এবং এর ওপর সেই কুৎসিত প্রলেপ দিচ্ছে, যা মূলত নারীর সহজাত প্রকৃতির পরিপন্থী।
কেন এমনটি হচ্ছে?! কারণটি অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট: যৌন অরাজকতা ছড়িয়ে পড়া এবং অতীত দিনের সেই পর্দা ও সীমাবদ্ধতাগুলো শিথিল বা দূর হয়ে যাওয়ার ফলে নারীর স্বার্থ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় কোনো ক্ষতি আর হতে পারে না। এই পুরুষরাই অশ্লীল ছবি ও পর্নো মুভি তৈরি ও বাজারজাত করছে। এই পুরুষরাই নিজেদের পণ্য বিক্রির জন্য এবং বৈষয়িক মুনাফা লাভের আশায় নারীর শরীরকে ব্যবহার করছে। তা সে কোনো ফল বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত সিগারেট বিক্রি হোক, কিংবা অন্যকে প্রলুব্ধ করার ক্ষেত্রেই হোক…।
আমার মতে, যে সব নারী ফ্যাশন শো-তে কাজ করেন, শিল্পীদের সামনে বিবস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন কিংবা পণ্য প্রচারে নিয়োজিত আছেন—তারা এই অঙ্গনে পুরুষদের সহযোগী বা অংশীদার মাত্র। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তারা মূল অপরাধী বা দায়ী নন। কারণ তাদের এই কাজের পেছনে থাকে কোনো তীব্র অভাব (মহান আরবীয় প্রবাদে আছে: ‘স্বাধীন নারী ক্ষুধার্ত থাকলেও নিজের স্তন্য বিক্রি করে খায় না!’), নতুবা প্রলোভন কিংবা প্রতারণা। তথাকথিত ‘নারী স্বাধীনতা’র সাথে যৌনতার এই প্রদর্শনের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সত্য এর উল্টো; এটি এটাই প্রমাণ করে যে নারীর জগত এখনো সেই পুরুষতান্ত্রিক লালসার কাছেই বন্দি ও অনুগত! আমরা একে মুক্তি বা স্বাধীনতা বলে যা ভাবছি, এটি তার

« <
/ 351
> »