ভীরু, কৃপণ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তোলে।” অর্থাৎ ঈমান দুর্বল হলে সন্তানরা বাবাকে জিহাদের ময়দান থেকে বিমুখ করে রাখে (পাছে তারা এতিম হয়ে যায়—এই ভয়ে)। অভাবের আশঙ্কায় আল্লাহর পথে দান করা থেকেও তাকে বিরত রাখে। এই হাদীসটি মূলত সন্তানদের কারণে আল্লাহর ইবাদত ও জিহাদ থেকে পিছিয়ে পড়ার প্রতি সতর্কবাণী। বরং মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে সাহসের সাথে সামনে এগিয়ে যাবে। যে ব্যক্তি কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় সন্তান কামনা করে, সে অবাধ্যদের অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে একজন পরিপূর্ণ মুমিন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সন্তান কামনা করে, তাকে আল্লাহর আনুগত্যের ওপর গড়ে তোলে এবং মহান রবের শেখানো সেই দোয়া করে—”হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন যারা আমাদের চক্ষুশীতল করবে এবং আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন।”
কন্যাসন্তান লাভে অসন্তুষ্ট হওয়ার পরিণাম
পবিত্র কুরআনে জাহেলিয়াত যুগের সেই জঘন্য প্রথার নিন্দা করে বলা হয়েছে:
“যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে মুখ লুকিয়ে রাখে; সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ!” [সূরাহ আন-নাহল: ৫৮-৫৯]
একটি শিক্ষণীয় ঘটনা এখানে উল্লেখযোগ্য। আরবের এক আমির এক নারীকে বিয়ে করলেন এই আশায় যে তার ঘরে পুত্রসন্তান আসবে। কিন্তু তার ঘরে জন্ম নিল একটি কন্যা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমির সেই স্ত্রীর ঘরে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন এবং পাশের অন্য একটি তাবুতে থাকতে শুরু করলেন। এক বছর পর তিনি যখন সেই স্ত্রীর তাবুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন শুনতে পেলেন স্ত্রী তার ছোট্ট মেয়েটিকে নাচাতে নাচাতে গাইছেন:
“আবু হামজার কী হলো যে আমাদের কাছে আসে না?
আমরা পুত্র জন্ম দিতে পারিনি বলে সে কেন রাগে ফেটে পড়ে?
সে কেন আমাদের পাশের বাড়িতে পড়ে থাকে?
আল্লাহর কসম! সন্তান জন্ম দেওয়া তো আমাদের হাতে নেই!
আমাদের যা দেওয়া হয়, আমরা তো কেবল তাই গ্রহণ করি।”
এই কাব্যময় আর্তি শুনে সেই ব্যক্তি লজ্জিত হলেন এবং ঘরে ঢুকে স্ত্রী ও কন্যার কপালে চুমু খেলেন।
আল্লাহ
